জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড © টিডিসি সম্পাদিত
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণি এবং মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে চারটি নতুন পাঠ্যবই। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আনন্দময় শিখন’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলা ভার্সনের সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর ইংরেজি ভার্সনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব পাঠ্যবই ‘কালার পেপারে’ ছাপানো হবে বলে জানা গেছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণির নতুন ২ বইয়ের জন্য প্রায় ৭২ লাখ ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির জন্য প্রায় ৮০ লাখ ছাপানো হবে। বর্তমানে বইগুলোর লাইভ টেন্ডার চলমান রয়েছে, পরে টেন্ডার ওপেন হবে এবং যারা টেন্ডার পাবে তাদের নোয়া (নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হবে। নোয়া পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রেসের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করা হবে এবং বইয়ের সিডি অনুযায়ী নতুন ৪টি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। তবে এনসিটিবির চুক্তি অনুযায়ী ৭০ দিনের মধ্যে ছাপার কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এসব বইয়ের ক্ষেত্রে কম সময় দেওয়া হবে। নতুন বইগুলো প্রাথমিকের ন্যায় কালার পেপারে ছাপানো হবে। মাধ্যমিকের বইগুলো ব্ল্যাক এন্ড ওয়াইট কালারে ছাপা হয়ে থাকে। কিন্তু ৬ষ্ঠ শ্রেণির নতুন দুই বই কালার পেপারে ছাপানো হবে।
এ ছাড়াও প্রাথমিকের পাঠ্যবইগুলো ৮০ জিএসএম ও মাধ্যমিকে ৭০ জিএসএম কাগজে ছাপানো হয়ে থাকে। তবে নতুন ৪টি পাঠ্যবই ৮০ জিএসএম কাগজে ছাপানো হবে।
সূত্র আরও জানায়, নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের বাংলা ভার্সনের সম্পাদনার কাজ শেষ হলেও ইংরেজি ভার্সনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এর মাঝেই একদিনের একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে। যেখানে বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে চূড়ান্ত করা হবে। সব কাজ চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
নতুন চার পাঠ্যবই
চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইয়ে থাকছে ১৩ অধ্যায়। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার গুরুত্ব, নিয়মকানুন, কৌশল, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে পরিচিত করানো এই বইয়ের মূল লক্ষ্য।
বইটির অধ্যায়গুলো হলো— খেলাধুলার গুরুত্ব ও উপকারিতা, শরীরচর্চা ও ব্যায়াম, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, অ্যাথলেটিকস (দৌড় ও লাফ), সাঁতার, মার্শাল আর্ট, খেলাধুলা ও মানসিক প্রশান্তি, খেলাধুলায় দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা এবং নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া। প্রতিটি অধ্যায়ে সংশ্লিষ্ট খেলার মৌলিক ধারণা, নিয়ম, কৌশল, অনুশীলন এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় গুরুত্ব পাবে। খেলাধুলার মাধ্যমে দলগত মনোভাব, আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা তৈরির বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে থাকছে ১০ অধ্যায়। বাংলাদেশের ভাষা, ঐতিহ্য, জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে বইটিতে এসব অধ্যায় রাখা হয়েছে।
অধ্যায়গুলো হলো— আমি ও আমার সংস্কৃতি, পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধ, ভাষা ও সাহিত্য-সংস্কৃতি, উৎসব ও ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, শিল্প-সংস্কৃতি, বাংলাদেশের খাবার সংস্কৃতি, পোশাক ও অলংকার, বাংলাদেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং প্রকৃতি ও সংস্কৃতি।
এই বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, দেশের ঐতিহ্য, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনধারা এবং সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ধারণা সম্পর্কে জানতে পারবে।
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আনন্দময় শিখন’ বইটি শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মানসিকতা, সুস্থ জীবনচর্চা ও আনন্দময় শেখার অভিজ্ঞতা তৈরিতে গুরুত্ব দেবে।
সাতটি অধ্যায়ে সাজানো এই বইয়ের বিষয়গুলো হলো— ব্যায়াম করা, শরীরের যত্ন নেওয়া, বিনয়ী হওয়া, প্রিয় ও ভালোবাসার মানুষদের সঙ্গে থাকা, পৃথিবীকে উপভোগ করা, কৃতজ্ঞ হওয়া এবং সুখী হওয়ার উপায়। বইটিতে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং ব্যবহারিক কাজ ও শেখার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয় রাখা হয়েছে। পড়াশোনাকে আনন্দময় ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার লক্ষ্যেই এই বইটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হতে যাওয়া আরেকটি নতুন বই ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। সাধারণ শিক্ষার স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের কাছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা এই বইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য।
জন কেলারের ১৯৮৩ সালের ‘এআরসিএস-পি’ প্রেরণা মডেল অনুসরণ করে বইটির কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই মডেলের মূল বিষয় হলো— মনোযোগ, প্রাসঙ্গিকতা, আত্মবিশ্বাস, সন্তুষ্টি ও উদ্দেশ্য।
পাঁচটি অধ্যায়ে সাজানো এই বইয়ের বিষয়গুলো হলো— দক্ষ মানুষের ওপর নির্ভরশীলতা (মনোযোগ আকর্ষণ), কারিগরি দক্ষতায় সহজতর জীবন (প্রাসঙ্গিকতা), নিরাপদ দক্ষতা শেখা (আত্মবিশ্বাস), সমাজ ও জাতির জন্য কারিগরি দক্ষতা (সন্তুষ্টি) এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (উদ্দেশ্য)।
এই বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব, বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ, বিভিন্ন পেশার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাবে।