কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর © টিডিসি সম্পাদিত
সফটওয়্যার-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য শূন্যপদের তথ্য দিতে নির্ধারিত সময় বাড়ানোর কথা ভাবছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিটিই)। বর্তমানে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার শেষ সময় ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা নির্ধারিত থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো তথ্য দিতে পারছে না। ফলে সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক শূন্যপদের তথ্য নিশ্চিত করতে সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রম সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নতুন এমপিও-টি-টি-এস (MPO-TTS) সফটওয়্যারে প্রবেশ করে শূন্যপদের চাহিদা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই সফটওয়্যারে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। কোথাও প্রতিষ্ঠানের ধরন ভুল দেখাচ্ছে, কোথাও কাঙ্ক্ষিত বিষয় বা পদের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান ই-মেইল-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সফটওয়্যারেই প্রবেশ করতে পারছে না।
এসব সমস্যা জানিয়ে এখন পর্যন্ত সফটওয়্যারের ‘মন্তব্য’ ঘরে দুই শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। তবে এই সংখ্যা সমস্যায় পড়া শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা নয়। এটি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জমা দেওয়া অভিযোগের সংখ্যা।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত ইএফটি (EFT) সিস্টেমে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য নতুন শিক্ষক বদলি সফটওয়্যারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইএফটি সিস্টেমে থাকা ২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নতুন প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার সময় কিছু তথ্য সঠিকভাবে স্থানান্তরিত না হওয়ায় নতুন সফটওয়্যারে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
এর ফলে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘ইনস্টিটিউট টাইপ’ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যেমন, একটি প্রতিষ্ঠান নিজেকে স্বতন্ত্র এইচএসসি ক্যাটাগরির হলেও সফটওয়্যারে সেটি সংযুক্ত এইচএসসি হিসেবে দেখাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় সফটওয়্যারে প্রদর্শিত বিষয় ও পদের তালিকাতেও পরিবর্তন এসেছে। এতে শূন্যপদের সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না প্রতিষ্ঠান প্রধানদের।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ইমেইল-সংক্রান্ত সমস্যাও সময় বাড়ানোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত বা ভুল ইমেইল ব্যবহার করায় ওটিপি পাওয়া ও লগইনে সমস্যা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই ইমেইল দিয়ে একাধিক ব্যবহারকারী প্রবেশের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে অধিদপ্তরে সঠিক ইমেইল না পাঠানোর কারনে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারছেন না অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান।
অধিদপ্তর সূত্র আরও জানায়, সফটওয়্যারে পাওয়া বিভিন্ন অসঙ্গতি যাচাই করে সংশোধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য নিশ্চিত না করে বদলি কার্যক্রম শুরু করতে চায় না অধিদপ্তর। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের পরও শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অধিদপ্তরের এমপিও শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংযুক্ত কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সফটওয়্যারজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান এখনো শূন্যপদের চাহিদা দিতে পারছেন না। যদি সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক শূন্যপদের সংখ্যা না জানতে পারি তাহলে বদলি কার্যক্রম শুরু করতে পারব না। তাই সময় বাড়ানোর চিন্তা করছি।’
সমস্যার সমাধানের উপায় জানিয়ে অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা জানান, শিক্ষকরা যেকোনো সমস্যায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সফটওয়্যারের কমেন্ট বক্স বা মন্তব্য ঘরেও সমস্যার কথা জানাতে পারেন। যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান ই-মেইল জটিলতার কারণে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারছেন না, তারা অফিস চলাকালে ০১৪০৩৩১৯৮০৮ নম্বরে যোগাযোগ করলে সমাধান দেওয়া হবে। হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ দিলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।