অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলল সত্যতা © সৌজন্য প্রাপ্ত
নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকউলী বহুমুখী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, তথ্য গোপন করে এমপিও সুবিধা গ্রহণ, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং প্রতিষ্ঠানের তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট শিক্ষা পরিদর্শক মকবুলার রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি এ প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটির অপর সদস্য ছিলেন অডিটর সিরাজুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল মান্নানের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তটি পরিচালিত হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসে।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বিধিবহির্ভূতভাবে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষক পদেও নিয়োগ নেন। একই সঙ্গে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করে ২০০২ সাল থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করার অভিযোগেরও সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এভাবে তিনি মোট ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫১ টাকা সরকারি অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ ২০ হাজার ৮০৭ টাকা ফেরতযোগ্য বলে মত দিয়েছে কমিটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ‘ডোনেশন’ নেওয়ার অভিযোগেরও তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চারজন শিক্ষকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও তাঁদের মধ্যে তিনজনকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি, সেশন চার্জ, বেতন ও কোচিং ফি বাবদ আদায় করা অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার তথ্যও পেয়েছে তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের পুকুর ইজারা এবং পুরোনো আসবাবপত্র, আম ও বিভিন্ন গাছ বিক্রি করে পাওয়া ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি।
এসব অনিয়ম ও আর্থিক অসংগতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আত্মসাৎ বা অনিয়মের মাধ্যমে গ্রহণ করা সরকারি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ যথাযথভাবে ফেরত আনার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
অভিযোগের বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।