সরকারের ৬ মাসে শিক্ষা খাতে ৮ বিতর্ক, ১০ বড় পরিকল্পনা

১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ PM , আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ PM
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে শিক্ষা খাতে যেমন একাধিক বড় পরিকল্পনা ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তেমনি বিতর্ক-সমালোচনাও পিছু ছাড়েনি। একের পর এক নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরে তা সংশোধন বা বাতিল, শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ, শিক্ষাক্রম সংস্কার, এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ঘিরে বিতর্ক—সব মিলিয়ে প্রথম ১৮০ দিনে নানা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল শিক্ষা প্রশাসন। অন্যদিকে, ডিজিটাল শিক্ষা, শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সংযোগ, শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস-ব্যাগ বিতরণ, ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব, ক্যাডেল কলেজের আদলে প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু বড় পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, শিক্ষাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও ধারাবাহিকভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। দাবি উঠেছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেরও। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘোষণার পরপরই সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। আবার কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই তা নিয়ে আন্দোলন ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও অংশীজনের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার ছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়টি ছিল না। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

সিদ্ধান্তে বারবার পরিবর্তন
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে রাজধানীসহ মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীরে পাঠদানের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে অভিভাবকদের আপত্তি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এতে সায় না দেওয়ায় পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে মন্ত্রণালয়। এরপর প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে কোচিং নির্ভরতা বাড়ার শঙ্কায় সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসে মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারির মাধ্যমেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতেও লটারির মাধ্যমে ভর্তির দিকে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়।

এনটিআরসিএর নিয়োগ ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক, আন্দোলন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি তৈরি হয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা নিয়ে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যক্রম নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভা-সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণীতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এনটিআরসিএকে শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়। 

পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সভার রেজুলেশনের আলোচনার একটি অংশ কেটে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন নয়। মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বিষয় আলোচনার টেবিলে ওঠার পর রেজুলেশন আকারে মন্ত্রীর কাছে আসা মানেই তা চূড়ান্ত রাষ্ট্রীয়, প্রধানমন্ত্রীর বা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। যাচাই না করে আন্দোলনে নামাকে তিনি অনভিপ্রেত বলেও মন্তব্য করেন। তবে শিক্ষামন্ত্রীর এমন দাবির সাথে সভায় হওয়া সিদ্ধান্তের অমিল রয়েছে বলে ফ্যাক্টচেকসহ একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা বদল
অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ভালো সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নিয়োগ ডিসিদের অধীন বা সরকারের অধীনে নিয়ে আসার বিষয়টি। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও এখনও ওই সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেনি এনটিআরসিএ। দ্রুত ভাইভা নেওয়ার দাবিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ইতোমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। তবুও ভাইভার তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা ও আন্দোলন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে বড় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি সামনে এনে শিক্ষার্থীরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। কয়েকদিনের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলার উদ্দেশ্য তার ছিল না; তারপরও তার কথায় কেউ আহত হয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত।

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলিতেও বিতর্ক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও মন্ত্রণালয়কে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বদলির ক্ষমতা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবর্তে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

খসড়া নীতিমালায় বদলি কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বাইরের ব্যক্তিদের যুক্ত করা হলে স্বচ্ছতার বদলে তদবির ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়তে পারে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। সমালোচনার পর গত ১৮ জুলাই ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাদ দেওয়া হয়। পরিবর্তে ‘শিক্ষানুরাগী’ বা ‘বিদ্যোৎসাহী’ ব্যক্তিদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর এপিএসকে ঘিরে বিতর্ক
শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে ঘিরেও তৈরি হয় বিতর্ক। বদলি ও তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর তাকে মন্ত্রীর এপিএসের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর গত ১৪ মে তাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হলে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে এমন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে শিক্ষা প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত ১৯ মে ওই নিয়োগের আদেশও বাতিল করা হয়।

উপাচার্য নিয়োগেও বিতর্ক
বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছে মন্ত্রণালয়। তিনটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্য না থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগগুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আল-হাদিস, মার্কেটিং ও সমাজকল্যাণ বিভাগের অধ্যাপকদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের পদায়ন
বিএনপি সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষা ক্যাডারের বিতর্কিত এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন অনেকেই ঢাকায় বিভিন্ন দপ্তর ও কলেজে পদায়ন করার অভিযোগ ওঠে। বিতর্কের মুখে ইতোমধ্যে একাধিক আবেদন বাতিলও করা হয়েছে। শুধু তাই নয়; অনিয়মের তদন্ত চলছে, এমন ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ বানানোর মতো ঘটনাও ঘটায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও বিতর্কের বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, লটারি ভর্তি, এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ এবং ডিসিদের মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগের মতো ব্যবস্থাগুলো শিক্ষায় স্বচ্ছতা এনেছিল। এসব সিদ্ধান্ত বাতিল না করে এগুলোকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

১০ বড় উদ্যোগ
উচ্চশিক্ষাকে আরও কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিল্প-সংযুক্ত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ) এবং শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বর্তমান সরকার। ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম সংস্কার, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উচ্চশিক্ষাকে আরও ব্যবহারিক ও কর্মসংস্থানমুখী করার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

নির্দেশনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং আর্থিক সাক্ষরতাকে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখায় উৎসাহ দেওয়া এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম সংস্কার অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা শুধু দক্ষ পেশাজীবী নয়, দক্ষ উদ্যোক্তাও তৈরি করবে।

শিক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে ৫৬.৬ শতাংশ
শিক্ষাখাতে বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগের বছর শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। ফলে শিক্ষায় সরকারি ব্যয় দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের বিএনপির লক্ষ্য অর্জনের পথে এটিকে একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষায় সামাজিক বৈষম্য কমাতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পার্বত্য ও দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক বিনা মূল্যের বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ৩২৯টি নতুন টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।

৪৩টি অগ্রাধিকার কর্মসূচি
শিক্ষাখাতের জন্য এপ্রিল ২০২৬-এ ৪৩টি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব কর্মসূচির মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক (সম্মান) পর্যায় পর্যন্ত বিনা টিউশন ফি সুবিধা সম্প্রসারণ, উচ্চশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করপোরেট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

ক্যাডেট কলেজের আদলে ৬০০ প্রতিষ্ঠান
দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০টি সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য একটি করে আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হবে। ক্যাডেট কলেজের আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা এসব প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ আবাসিক হবে।

শিক্ষকদের বেতন-মর্যাদা উন্নয়নের উদ্যোগ
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং সামগ্রিক আর্থসামাজিক মর্যাদা পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬-এ সংসদে এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত ১৫ আগস্ট বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে প্রাথমিক শিক্ষায় এ কর্মসূচির ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর
শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৪১৮টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর কার্যক্রম চলছে। জামালপুরে সফল পাইলটিংয়ের পর ১৫ জুন ২০২৬ থেকে হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক দৈনন্দিন শিক্ষক উপস্থিতি ব্যবস্থা সারাদেশে চালু করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ
পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬০৯টি চারা রোপণ করা হয়েছে।

বিদেশি ভাষা ও খেলাধুলায় গুরুত্ব
মাধ্যমিক, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য বিদেশি ভাষার সমন্বিত কারিকুলামের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে কোরিয়ান, জাপানিজ, আরবি ও চীনা ভাষার শর্ট কোর্স চালু রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঁচটি নির্ধারিত ক্রীড়া ইভেন্ট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ
প্রথম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম চালানে ১ লাখ ৫ হাজার সেট স্কুল ড্রেস ও ২৫ হাজার জোড়া উন্নতমানের জুতা কেন্দ্রীয় ভান্ডারে জমা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

উপবৃত্তি ও গণশিক্ষা কার্যক্রম
নারী শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই কিস্তিতে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল অ্যাকাউন্টে মোট ১ হাজার ১৮১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা উপবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দারুল আরকাম প্রকল্পের ৯৯৮টি প্রতিষ্ঠানে ৫৯ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীকে নৈতিক ও প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা প্রকল্পের ৬৯ হাজার ৮৭৪টি কেন্দ্রে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষা নিচ্ছে; এ কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্কুল চলাকালে কোচিং সেন্টার বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নি…
  • ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাসের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা নার্সিং ছাত্রীসহ নিহত ২, আহত ৩
  • ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিপিএডে অনুত্তীর্ণদের মানোন্নয়ন পরীক্ষা শুরু ১০ সেপ্টেম্বর,…
  • ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ জেলায় উপজেলা ম্যানেজার নিয়োগ দেবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, আ…
  • ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাসপাতালে নেয়ার পথে সন্তান জন্ম দিলেন এক নারী হাজতি
  • ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসিতে বিএনপির লোক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন ‘দখলের পরিকল্…
  • ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
EIIN : 134209
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে
একাদশ শ্রেণিতে
ভর্তি চলছে
অনলাইন আবেদন ০২ - ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদন করুন

বিভাগ ও আসন সংখ্যা

বিজ্ঞান বিভাগজিপিএ ৪.০০
৫০০
ব্যবসায় শিক্ষাজিপিএ ৩.০০
৫০
মানবিক বিভাগজিপিএ ৩.০০
১০০

কেন হামদর্দ পাবলিক কলেজ?

  • প্রতি বছর শতভাগ পাস, ৭০% জিপিএ-৫
  • SCQ (Special Class & Quiz)
  • শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম ও আধুনিক ল্যাব
  • ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক হোস্টেল সুবিধা
  • ক্লাস শুরু: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০১৮২৪-৫৫৭৮১২, ০১৬১১-৪৬৬৩৭৬