নেক্সটজেন এডুকেশন প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণ পাবেন ৭ লাখ শিক্ষক, উপকৃত হবে ২ কোটির বেশি শিক্ষার্থী

০২ জুলাই ২০২৬, ০২:২৪ PM
রাজধানীতে ইউনেস্কো আয়োজিত অনুষ্ঠান

রাজধানীতে ইউনেস্কো আয়োজিত অনুষ্ঠান © টিডিসি ফটো

দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাকে একই সংস্কার কাঠামোর আওতায় আনতে ২০২৭-২০৩১ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে নেক্সটজেন এডুকেশন প্রোগ্রাম (এনজিইপি)। এ কর্মসূচির আওতায় ৭ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী, সমন্বিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, ব্লেন্ডেড শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে একাধিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট ও মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এর আওতায় ১৪ হাজার ৬৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত এক হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া এক হাজার ৫০টি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪৯৫টি মাধ্যমিক মাদ্রাসা এবং ২০০টি ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। কর্মসূচির আওতায় ৭ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর সুফল পাবে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক স্তরের এবং ১ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী।

এছাড়াও নেক্সটজেন এডুকেশন প্রোগ্রামের আওতায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাকে একটি অভিন্ন সংস্কার কাঠামোর অধীনে আনা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমন্বিত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী এবং শিক্ষক সহায়তা জোরদার করা হবে। ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রীর জন্য জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি ডিজিটালভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু করা হবে।

প্রকল্পটির অধীনে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ছয়টি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ওয়ান প্রোগ্রাম, ফোর স্ট্রিমস (প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি বা এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষাকে একটি একক সংস্কার কাঠামোর অধীনে আনা), ন্যাশনাল কনটেন্ট স্ট্যান্ডার্ডস (ডিজিটাল রিসোর্সের জন্য জাতীয়ভাবে অনুমোদিত মানদণ্ড নিশ্চিত করা), স্কুল-বেইজড সিপিডি (বিদ্যালয়ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা), ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং এনভায়রনমেন্ট (শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, ডিজিটাল কনটেন্ট ও শিক্ষক সহায়তার সমন্বয়ে সমন্বিত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি), ব্লেন্ডেড ট্রেনিং মডেল (অনলাইন ও অফলাইনের সমন্বয়ে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা) এবং ইউনিফায়েড অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম (প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সমন্বিত ও ডিজিটালি ট্র্যাকড মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা)।

আরও পড়ুন: কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে চাইলে আগে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করা হবে। প্রতি ১ ডলার জিপিই মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্টের বিপরীতে ৩ ডলার কো-ফাইন্যান্সিং সচল হবে। ৫০ মিলিয়ন ডলারের জিপিই মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্টের বিপরীতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থায়ন মূলত নেক্সটজেন এডুকেশন প্রোগ্রাম (এনজিইপি)-এর অধীনে তিনটি সরকারি শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ ১৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে এডিবির ২২০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংশ যুক্ত থাকবে। একইভাবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্যও ১৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়াও আরও ৮০ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ যুক্ত হবে।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ (এসএইচইডি), কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ (টিএমইডি) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাহী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (ডিএসএইচই), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিটিই) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিএমই)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাংলাদেশ ডেলিগেশনের শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিবাসনবিষয়ক টিম লিডার জুরাতে স্মালজাইটে-মারভিল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ইমানুয়েলা আহরিওস, ইউনেস্কো বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও প্রধান ড. সুসান ভিজ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর আকিরা মাতসুনাগাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। 

বিয়ের ৬ মাসের মাথায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার
  • ০২ জুলাই ২০২৬
প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভাইভা কবে—প্রশ্নের জবাবে যা বললেন শিক্ষা…
  • ০২ জুলাই ২০২৬
মায়ামি বিমানবন্দরে মেসিকে কঠোর তল্লাশি, হেসে কুটি কুটি
  • ০২ জুলাই ২০২৬
ববিকে প্রথম ফ্যাসিস্ট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতির …
  • ০২ জুলাই ২০২৬
ময়মনসিংহে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার
  • ০২ জুলাই ২০২৬
ঢাবির মসজিদে ডাকসুর বসানো এসি চালানোর সক্ষমতা নেই বিশ্ববিদ্…
  • ০২ জুলাই ২০২৬