একই নিয়োগ, একই যোগ্যতা, তবুও ৪ মাস বেতনহীন মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকরা

২৩ মে ২০২৬, ০৮:০৯ PM , আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:১১ PM
মাদ্রাসা শিক্ষক

মাদ্রাসা শিক্ষক © এআই দিয়ে তৈরিকৃত ছবি

৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় কৃষি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বর্তমানে চরম গ্রেড বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং একই পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও স্কুলে যোগদানকারী কৃষি শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে এমপিওভুক্ত হয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। অথচ মাদ্রাসায় যোগদানকারী কৃষি সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতনহীন অবস্থায় রয়েছেন। এর ফলে গত ঈদুল ফিতরের ন্যায় ঈদুল আজহাতেও বেতন পাবেন না ভুক্তভোগী শিক্ষরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, কৃষি সহকারী শিক্ষক পদটি পূর্ব থেকেই ১০ম গ্রেডভুক্ত। কিন্তু মাদ্রাসায় যোগদান করার পর এমপিও আবেদন বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলেও তা বিভিন্ন কারণে ফেরত বা বাতিল করা হচ্ছে। ফলে শতাধিক শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে অভিযোগ জানানো হলে তৎকালীন সচিব বিষয়টি পর্যালোচনা করে বৈষম্যের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য একটি ফাইল উপস্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষামন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে ফাইলটি অনুমোদন করেন এবং বৈষম্য নিরসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

তবে শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের পরও বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগের সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সেই ফাইলের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা চিঠি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছায়নি। ফলে দুইটি ঈদ পার হলেও শিক্ষকরা কোনো বেতন বা উৎসব ভাতা পাননি।

কিন্তু দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষক সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একজন নারী শিক্ষক জানান, বেতন না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী পর্যন্ত আমাকে দোষারোপ করেন। তিনি বলেন, তুমি কুলক্ষী, তাই বেতন হচ্ছে না। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা দ্রুত গ্রেড বৈষম্য নিরসন, এমপিও অনুমোদন এবং বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও একই পদে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে এমন বৈষম্য শুধু প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, এটি তাদের পেশাগত মর্যাদা ও মানবিক জীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য, দীর্ঘ চার মাস ধরে বেতন ছাড়া দায়িত্ব পালন করেও তারা এখনো আশায় আছেন যে সরকার দ্রুত সমস্যার সমাধান করবে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়ার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বগুড়ায় ইয়াবা বিক্রির সময় দুই পুলিশ সদস্য আটক
  • ২৩ মে ২০২৬
হামের রোগীদের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল:…
  • ২৩ মে ২০২৬
জার্মানিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ১.৫ টন অবিস্ফোরিত গো…
  • ২৩ মে ২০২৬
ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
  • ২৩ মে ২০২৬
ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, পদ ৪,…
  • ২৩ মে ২০২৬
মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন বন্ধে কাজ করার ঘোষণা দিলো শায়খ আহমাদ…
  • ২৩ মে ২০২৬