গ্রেড বৈষম্যের শিকার কলেজের ল্যাব সহকারীরা, নির্বাক মন্ত্রণালয়

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০০ PM
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি

একই যোগ্যতা, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার পরও গ্রেড বৈষম্যের কারণে বেতন কম পাচ্ছেন কলেজের ল্যাব সহকারীরা। বিষয়টি সমাধানে ভুক্তভোগীরা একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে আর্থিক সংকটে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এসব ল্যাব সহকারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কলেজের ল্যাব সহকারীরা ১৮তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। তবে মাদ্রাসার ল্যাব সহকারীরা ১৬তম গ্রেডে বেতন পান। যদিও উভয় ল্যাব সহকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ অন্যান্য বিষয় সবই একই থাকলেও কেবলমাত্র মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারণে গ্রেড বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিও নীতিমালা সংশোধনের সময় প্রার্থীরা আমাদের কাছে বিষয়টি জানালে আমরা তা সংশোধন করে দিতাম। নতুন করে এমপিও নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। এর আগে সরকারি ল্যাব সহকারী কোন গ্রেডে বেতন পান সেটি দেখে পরবর্তীতে কলেজের ল্যাব সহকারীদের বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে কর্মরত ল্যাব সহকারীরা বর্তমানে ১৮তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। অথচ বিভিন্ন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত ল্যাব সহকারীদের বেতন গ্রেড ১০ম, ১১তম, ১৪তম কিংবা সর্বনিম্ন ১৬তম। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি জারি করা এক পরিপত্রে ল্যাব সহকারীদের তৃতীয় শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এখনও জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ সংশোধন করে তাদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৬-এ মাদ্রাসার ল্যাব সহকারীদের বেতন গ্রেড উন্নীত করে ১৬তম করা হয়েছে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি/আলিম বা সমমান নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও কলেজ ও মাদ্রাসা শাখার ল্যাব সহকারীদের সঙ্গে তাদের বেতন কাঠামোতে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজের ল্যাব সহকারীদের অভিযোগ, ল্যাব সহকারীরা বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ের ব্যবহারিক পাঠদান কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সমপর্যায়ের কাজ করার পরও বেতন কাঠামোর পার্থক্য তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কর্মনীতিমালা না থাকায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাব বহির্ভূত বিভিন্ন কাজ করানো হয়, যা ল্যাব কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ল্যাব সহকারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ‘একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাদ্রাসার ল্যাব সহকারীদের ১৬ গ্রেড,  এবং  কলেজের ল্যাব সহকারীদের ১৮ গ্রেড দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কলেজ পর্যায়ের ল্যাব সহকারীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। অতি দ্রুত কলেজ পর্যায়ে ল্যাব সহকারীদের মাদ্রাসার ন্যায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উন্নতি করে ন্যূনতম ১৬ গ্রেড দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

অফিস পাচ্ছেন এমপিরা, গাড়ি চাইলেন হাসনাত
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ককটেল …
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
তারকাদের শোপিস না বানিয়ে ত্যাগী নারীদের মূল্যায়নে বিএনপিকে …
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
সিটি কলেজে শিবিরের হামলা, রাতে ঢাবিতে বিক্ষোভের ডাক ছাত্রদল…
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
‎জাবিতে ২ বছরে পানির স্তর নেমেছে ৭.৬৪ ফুট
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মজিবুর রহমান
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬