৪৭১ জাল সনদধারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে, এমপিও বন্ধ-মামলার নির্দেশনা আসছে

১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ PM , আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৭ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি সম্পাদিত

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত প্রায় ৫০০ জাল সনদধারীর তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মান্থলী পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বন্ধ, মামলা, বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরতসহ কঠোর নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকায় মোট ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪ জন শিক্ষকের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ জাল করে চাকরি নিয়েছিলেন। এছাড়া কম্পিউটার সনদ জাল করে চাকরি করছেন ২২৯ জন। আর ৪৮ জন শিক্ষকের বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার ও অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম. এম সহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জনবল সংকটসহ নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। জাল সনদ এবং প্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত হওয়ার বিষয়টি প্রতিটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অনিয়ম তুলে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিআইএর পাঠানো জাল সনদধারীদের তালিকাটি চিঠির মাধ্যমে মাউশিতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু তাদের বেতন-ভাতা মাউশির মাধ্যমে দেওয়া হয়, এজন্য এ বিষয়ে মাউশিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জাল সনদ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের সরকারের কাছ থেকে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।  শুধু তাই নয়; এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। 

‘ডিআইএ থেকে জাল সনদধারীদের তালিকা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’—মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান, যুগ্মসচিব (নিরীক্ষা), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ডিআইএ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে শিক্ষা প্রশাসনের পুলিশ খ্যাত সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় স্কুল-কলেজের জাল সনদধারীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে ২০২৩ সালের শুরুতে স্কুল-কলেজের ৬৭৮ জন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসার প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। সেসময় মন্ত্রণালয় জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল।

তবে মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকায় অনেক জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (নিরীক্ষা) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ডিআইএ থেকে জাল সনদধারীদের তালিকা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিআইএ কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিত জনবল নিয়েও সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম খুঁজে বের করেন তারা। তবে মন্ত্রণালয়ের এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কারণে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে জাল সনদধারীদের নিয়োগ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। জাল সনদধারীদের নিয়োগ বন্ধ না হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ও রোধ করা যাবে না।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ডিআইএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এর আগে যে তালিকাগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার।’

কারিগরি ও মাদ্রাসার জাল সনদধারীদের তালিকা হচ্ছে
ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৫০ এর অধিক জাল সনদধারী চাকরি করছে। তাদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন এ তালিকা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিআইএ-এর এক কর্মকর্তা জানান, ‘কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৬৮ জন জাল সনদধারী রয়েছে। তাদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

৭৩৯ জাল সনদধারীর কাছে সরকারের পাওনা ৫৩৪ কোটি টাকা
গত ২০২১-২২ অর্থ বছর থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ৭ হাজার ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৭৩৯ জন জাল সনদধারী শনাক্ত করেছে ডিআইএ। এসব জাল সনদধারীর কাছে সরকার ৫৩৪ কোটি পাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের এই সময়ে মোট ৮ হাজার ১৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে ডিআইএ। এর মধ্যে ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৭ হাজার ৯৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আরও ৭৩৬টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এক হাজার ৮২টি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই হাজার ১০৩টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৮৬টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয়। সরকারের আদায়যোগ্য অর্থ নির্ধারণ করা হয় ৪৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি। 

পরের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। জাল সনদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৭টিতে। আদায়যোগ্য অর্থ এক লাফে বেড়ে ৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় পৌঁছায়। যদিও এই সময়ে পরিদর্শনের সংখ্যা বেড়ে দুই ২০৯টি হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন কমে ১ হাজার ৩৪৯টিতে নেমে আসে। 

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিদর্শন কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ২ হাজার ৩৫৮টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ডিআইএ। এই সময় ১০৫টি জাল সনদ শনাক্ত করে সংস্থাটি। এই অর্থ বছরে ৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বেশি আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ সময় পরিদর্শনের সংখ্যা কম ছিল। তবে প্রতিবেদন প্রেরণ বেড়ে ২ হাজার ৮৩২-তে পৌঁছায়। একই অর্থ বছরে সর্বোচ্চ ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত হয়। আর্থিক অনিয়মও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে ১৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়।

চলতি অর্থবছরের আট মাসেই আরও ১৪৭টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৯-এ। একইভাবে চার বছরে প্রায় ৪১৯ কোটি টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারিত হলেও চলতি বছরে আরও ১১৫ কোটি টাকা যোগ হওয়ায় মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটিতে।

ট্যাগ: জাল সনদ
কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যার এক বছর, এখনো মেলেনি বিচার
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে ‘অ্যাডমিশন হাব’
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের দুদিন পরও থমথমে ইবি, প্রস্তুত অতিরিক…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিরসরাইয়ে নাপিত্তাছড়া ঝরনা পা পিছলে পড়ে কলেজছাত্র আহত
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরের চলাচল বিঘ্নিত, সেই যুবক ৫ দিনের র…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9