ডিজিটাল ডিভাইস এড়ানোর সুযোগ নেই, শিক্ষার্থীদের ‘আসক্তি’ নিয়ে যা বললেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২০ PM
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

আমরা ডিজিটাল ডিভাইসের যুগে প্রবেশ করেছি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। তিনি বলেছেন, এটি এড়ানোর সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে হয়ত ডিভাইস নিয়ে এখনকার মত কড়াকড়ি আরোপের সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও যানজট নিরসন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার লক্ষ্যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে মতবিনিয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, আজকে আমরা খুব সংকটাপন্ন ক্রাইসিসে পড়িনি বলেই অফলাইনের দিকে বেশিরভাগ মতামত দিতে সক্ষম হলাম। কিন্তু সংকট যদি খুবই ঘনীভূত হত, খুবই ক্রিটিক্যাল হত বা ভবিষ্যতে যদি হয়— সেক্ষেত্রে কি আমরা, অভিভাবকরা, শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম? অফলাইনের ব্যাপারে আমাদের মতামত দিতে সহজ হত?

তিনি বলেন, কাজেই আমাদের এরকম একটা মাইন্ডসেট হয়ত থাকা দরকার, বা আসতে আসতে বিল্ডআপ করতে হবে যে আমরা আল্টিমেটলি ডিজিটাল সিস্টেমের বাইরে থাকতে পারব না। এখন এন্ড্রয়েড ফোন সবার ঘরে নেই, কিন্তু একটা এন্ড্রয়েড ফোনের দাম যা ছিল ১০ বছর আগে— এখন দাম অনেক কমে আসছে। ভবিষ্যতে এই ডিভাইসের যত পার্টস, প্রত্যেকটার ম্যানুফ্যাকচারিং কস্ট কমে যাচ্ছে, নতুন আবিষ্কার হচ্ছে, ফলে ডিভাইসের দাম কমে যাবে। ওই সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু অভিভাবকদের মূল কনসার্নের জায়গা বা দুশ্চিন্তার জায়গাটি হচ্ছে ছেলেমেয়েরা একটা আসক্তিতে পড়ে, তারা এডিক্টেড হয়ে যায়। সারা দিন-রাত এটি নিয়ে থাকে, তাদের চোখের ক্ষতি হয়, ব্রেনের ক্ষতি হয়। এসব কারণে আমরা এখন বিরোধিতা করছি। ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী ঘরেও দেখেছি টিভি নিয়ে এই ক্রাইসিস ছিল। ছেলেমেয়েরা স্ক্রিনে আসক্তি বলতে তখন বুঝতাম টেলিভিশনের আসক্তি। এখন টেলিভিশন দেখে না বললেই চলে, কারণ বিকল্প ভাল একটা ডিভাইস তাদের হাতে আসছে। আর কিছুদিন পরে এটাও বাদ হবে, তখন এআই প্রযুক্তি তাদেরকে গ্রাস করবে। এইভাবে আমরা একটার পর একটা ডিজিটাল ডিভাইসের একটা ছেড়ে আরেকটা, আরেকটা ছেড়ে আরেকটা..., আমরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল ডিভাইসকে এভয়েড করতে পারব না। এটি আমাদের মনে রাখতে হবে।

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, কাজেই ভবিষ্যতে আমাদের ডিজিটাল সিস্টেমে থাকতে হবে। এখন শিশু যারা, ডিজিটালইজেশনে আরেক জেনারেশন তৈরি হবে। তখন আরেকটা নাম হয়ত হবে এবং এদের বায়োলজিক্যাল গঠনই হয়ত ভিন্ন হয়ে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। কোনটি ভাল কোনটি মন্দ সেটি অন্য বিচার। কিন্তু আমরা ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যে প্রবেশ করে গেছি অলরেডি। এর থেকে বেরোতে পারব না। আমাদের সে রকম মানসিক প্রস্তুতিটাও থাকা দরকার। আমরা ডিজিটাল সিস্টেমের মধ্যে আমরা অলরেডি প্রবেশ করে গেছি।

তিনি আরও বলেন, একটি সিঙ্গেল ডিভাইসের একটা স্টুডেন্টকে, তার পড়াকে অনেক সহজ করতে পারে। এটার সক্ষমতা সেটির আছে। আমরা সেভাবেও চিন্তা করতে পারি। এখন না পারি, নিকট ভবিষ্যতের জন্য আমরা এই মনোভাব আমরা দেব না।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেমিনারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাও উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকদের স্কুলে যেতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
হিটের প্রকল্প মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান ইউজিসি…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপি একটি ব্যর্থ আওয়ামী লীগ: সরোয়ার তুষার
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
জাটকা উৎপাদন বাড়াতে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ জরু…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছেন বিদেশি শিক…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণ…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close