ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৩ পদ
মেয়াদ উত্তীর্ণ মেমিস সফটওয়্যার
কাঙ্খিত যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও উচ্চতর গ্রেডে আবেদন করতে পারছেন না ১৬ হাজার শিক্ষক © সংগৃহীত
কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা (ফাজিল বা সমমান ডিগ্রি) স্বত্বেও ইবতেদায়ী মৌলভী, ক্বারী ও শিক্ষক পদে উচ্চতর গ্রেড পেতে আবেদন করতে পারছেন মাদ্রাসার প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক। মেমিস সফটওয়্যারে গ্রেড উন্নয়নের প্রয়োজনীয় অপশন ও আবেদন প্রক্রিয়া চালু না থাকায় আবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ করে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী ইবতেদায়ি শিক্ষক পদে—কাঙিক্ষত যোগ্যতা সাপেক্ষে ১৩তম গ্রেড প্রাপ্ত হবেন (সরকার স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়/বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ফাযিল/সমমান ডিগ্রি; পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙিক্ষত যোগ্যতা)।
তথ্যমতে, ইবতেদায়ি মৌলভী পদে—বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অথবা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফাজিল ডিগ্রি; দাখিল ও আলিমসহ কোনা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে আরবি বিষয়সমূহে (আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল ফিকহ অ্যান্ড ইসলামিক স্ট্যাডিজ, আরবি, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামিক স্টাডিজসহ অন্যান্য) স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি আছে; তারা ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারবেন। তবে পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙিক্ষত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩ গ্রেড প্রাপ্ত হবেন।
ইবতেদায়ী ক্বারী পদে—রেজিষ্ট্রেশনকৃত নুরানী/দরসে, কিরাআহ/হাফিজে; কুরআন/দাখিল মুজাব্বিদ/ আলিম মুজাব্বিদ-মাহিরসহ ফাযিল ডিগ্রি আছে তারা ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারবেন। তবে পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩ গ্রেড প্রাপ্ত হবেন।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ৪০ (৩), ৪১ (২) ও ৪২ (২) অনুযায়ী যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সংযুক্ত ইবতেদায়ি শিক্ষক/মৌলভী/ ক্বারী পদে গ্রেড-১৩ প্রাপ্তির জন্য মাদ্রাসার শিক্ষকরা আবেদন করে গ্রেড বাড়াতে পারবেন বলে বলা হয়।
এদিকে দেশে এমপিওভুক্ত আলিয়া মাদ্রাসা প্রায় ৮ হাজার ২২৯টি। ইবতেদায়ির ৩টি পদে উচ্চতর গ্রেডে আবেদনের ক্ষেত্রে কাঙ্খিত যোগ্যতা রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষকের। ১৪তম (১৬ থেকে ৩০ বছর ধরে চাকরি করা শিক্ষক) গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারলেও ১৫তম গ্রেড (১০ থেকে ১৬ বছর ধরে চাকরি করা শিক্ষক) ও (০ থেকে ৯ বছর ধরে চাকরি করছেন) ১৬তম গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারছেন না তারা। প্রাপ্তিতা থাকা স্বত্বেও আবেদন নিচ্ছে না মেমিস সফটওয়্যার। আর মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস) সফটওয়্যারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে সফটওয়্যারের অনুমোদন ও প্রজেক্টের মেয়াদ বাড়াতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে।
‘নীতিমালা প্রকাশের পর দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও আমাদের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক আবেদন করতে পারছেন না। আমরা এর সমাধান চাই।’— শাহিন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরাম
ভুক্তভোগীরা জানান, সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী ১৪তম গ্রেডের শিক্ষকরা চাকরি জীবনে দুইটি উচ্চতর স্কেল পেয়েও ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারলেও ১৫/১৬তম গ্রেডের শিক্ষকরা আবেদন করতে না পারার অভিযোগ তুলেছেন। সমস্যাটি নিয়ে কয়েক দফায় মাদ্রাসা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ করলেও শুধু আশ্বাস দিয়ে ফেরত পাঠায় বলে জানান তারা।
তারা আরও জানান, মেমিস সফটওয়্যারে গ্রেড উন্নয়নের প্রয়োজনীয় অপশন ও আবেদন প্রক্রিয়া চালু না থাকায় প্রায় ১৬ হাজার যোগ্য শিক্ষক আবেদন করতে পারছেন না। মেমিস সফটওয়্যারে প্রাপ্তিতা নেই বলে ফাইলটি রিজেক্ট করা হচ্ছে। মেমিস সফটওয়ারে প্রতিমাসের ১ থেকে ৪ তারিখের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও প্রতিমাসেই একই সমস্যা দেখাচ্ছে। নীতিমালা প্রকাশের ২ মাস পার হলেও আবেদন করতে পারছেন না ১৬ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক।
বাংলাদেশ সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহিন শিকদার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নীতিমালা প্রকাশের পর দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও আমাদের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক আবেদন করতে পারছেন না। আমরা এর সমাধান চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও শিক্ষকগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে মেমিস সফটওয়্যার দ্রুত আপডেট করে গ্রেড-১৩ প্রাপ্তির আবেদন কার্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) (উপসচিব) মো. আবুল কালাম তালুকদার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সমস্যার কারণে যে শিক্ষকরা গ্রেড পদোন্নতিতে আবেদন করতে পারছেন না, তা আজ জানতে পারলাম, সফটওয়্যারের টেকনিক্যাল কোনো ইস্যু থাকলে খুব শিগগিরই সমাধান করা হবে। তবে আজকেই সংশ্লিষ্টদের বলে দিচ্ছি, যদি সমাধান না হয়, কালকের ভেতর সমাধান করা হবে।’