সেরা শিক্ষার্থীরা কেন শিক্ষক হন না? উত্তরেই লুকিয়ে শিক্ষা সংকটের শিকড়

১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ PM , আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ AM
শিক্ষক সংকটে বাংলাদেশের শিক্ষা

শিক্ষক সংকটে বাংলাদেশের শিক্ষা © এআই সম্পাদিত ছবি

দেশের প্রায় ৭০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বড় অংশে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অন্যদিকে, দেড় যুগ ধরে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় তথা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খালি শিক্ষকের পদের সংখ্যা ৬০ হাজার ২৯৫। অথচ দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পড়াশোনা করে এসব প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে মানুষটির শ্রেণিকক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে পাঠদান করার কথা, বাস্তবে তিনি হয় নেই, নয়তো একজন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, বাংলাদেশের শিক্ষা-সংকটের মূল উৎস এই সংখ্যাগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

চলতি ধারাবাহিকের তৃতীয় পর্বে দেখানো হয়েছিল, বাংলাদেশের স্কুলব্যবস্থা ও এতে প্রবেশগম্যতা শিশুদের মেধা বা সামর্থ্য অনুযায়ী সাজানো নয়। বরং তাদের বাবা-মায়ের আয় ও বসবাসের এলাকার ভিত্তিতে এটি আলাদা। কিন্তু প্রবেশাধিকারের এই বৈষম্যই পুরো গল্প নয়। সবচেয়ে উন্নত ও অর্থায়নকৃত শিক্ষাক্রমও ব্যর্থ হয়ে পড়ে, যদি তা বাস্তবায়নের জন্য শ্রেণিকক্ষে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক না থাকেন। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা সংস্কারের সূচনা হওয়ার কথা ছিল এখান থেকেই। অথচ বাংলাদেশের প্রায় সব শিক্ষা সংস্কারই এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসে থেমে গেছে। 

আগামী দুই দশকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে হলে, অন্য সব কিছুর আগে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক না থাকলে, তিনি যে বিষয় পড়ান সে বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষিত না হলে, কিংবা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না পেলে বাকি সব সংস্কার শেষ পর্যন্ত কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। 

শিক্ষাবিদদের মতে, ১৯৭৮ সালের পর গঠিত সব শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ এবং ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রতিশ্রুত স্বাধীন শিক্ষক নিয়োগ কমিশন বাস্তবায়ন এখন অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের শূন্য থাকা ৬০ হাজার ২৯৫টি পদ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পূরণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে কেবল বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা দিলেই চলবে না; বরং নিয়মিত ত্রৈমাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি, মেধাবী স্নাতকদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতামূলক ও যুগোপযোগী বেতনকাঠামো প্রণয়ন করাও অপরিহার্য। 

শিক্ষকতা এমন একটা পেশা, যেখানে সর্বোচ্চ মেধা ও যোগ্যতার মানুষদের আসা উচিত। কিন্তু বাস্তবে আমরা কি সেই পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি? প্রশ্নটার সৎ জবাব হলো, না।—অধ্যাপক এম রিজওয়ান খান, সাবেক উপাচার্য, ইউআইইউ

সংখ্যার সংকট 
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ড. এম রিজওয়ান খান বলেন, শিক্ষক-সংকট বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি। আমরা নতুন নতুন নীতি, নতুন বিষয় ও নতুন কারিকুলাম নিয়ে কথা বলি। কিন্তু যে মানুষগুলো এসব বাস্তবায়ন করবে, সেই শিক্ষকদের দিকেই পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হয় না। 

তিনি বলেন, শিক্ষকের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— সংখ্যা এবং মান। সংখ্যার দিক থেকেই বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকসংকট এতটাই প্রকট যে ন্যূনতম জনবল দিয়েও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এটা কোনো বাড়িয়ে বলা কথা নয়। গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, একজন শিক্ষক একাই একাধিক শ্রেণিকক্ষ সামলাচ্ছেন। এ কারণে শিক্ষার্থীরা যেমন সামান্য মনোযোগ পাচ্ছে তেমনি তাদের শেখাটাও দুর্বল হচ্ছে।

মানের সংকট
অধ্যাপক রিজওয়ান খান বলেন,  ”সংখ্যার সংকট কাটিয়ে ওঠার পরই আসে গুণগত মানের প্রশ্ন। শিক্ষকতা এমন একটা পেশা, যেখানে সর্বোচ্চ মেধা ও যোগ্যতার মানুষদের আসা উচিত। কিন্তু বাস্তবে আমরা কি সেই পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি? প্রশ্নটার সৎ জবাব হলো, না।”

কেন মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হন না? অধ্যাপক খানের ব্যাখ্যা, কারণ শিক্ষকতাকে সেই মর্যাদা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়নি, যা একজন মেধাবী তরুণকে এই পেশায় টেনে আনবে। সরকারি চাকরির অন্যান্য অনেক ক্যাডারে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে। বেতন তুলনামূলক কম হলেও অন্যান্য সুবিধা সেই ঘাটতি পূরণ করে। কিন্তু একজন শিক্ষক সেই অর্থে বাড়তি কোনো সুবিধা পান না। প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা, পেশাগত সুযোগ- সব ক্ষেত্রেই শিক্ষকরা পিছিয়ে।

ফল যা হওয়ার তাই হয়। সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অধ্যাপক খান বলেন, আমরা যদি সত্যিই সেরা মানুষদের শিক্ষকতায় আনতে চাই, তাহলে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো, উন্নত পেশাগত সুবিধা এবং মর্যাদাকেন্দ্রিক একটি নীতি গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকতার পেশাকে আবারও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এটাকে দেখেন আরও বড় একটা প্রশ্নের অংশ হিসেবে। তিনি বলেন, প্রথমে দেখতে হবে, যে শিক্ষা আমরা দিতে চাই, সেটা বহন করার মতো শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সক্ষমতা আছে কি না। শিক্ষকের ক্ষেত্রে সংখ্যা আর মান, দুটোই জরুরি। দুটোতেই বাংলাদেশ পিছিয়ে।

তার ভাষায়, নতুন নতুন নীতি, নতুন বিষয় ও নতুন কারিকুলাম নিয়ে কথা হয়, কিন্তু যে শিক্ষক এসব বাস্তবায়ন করবেন, তার প্রস্তুতির দিকে নজর দেওয়া হয় না। ফলে সংস্কার কাগজে থেকে যায়, শ্রেণিকক্ষে পৌঁছায় না। 

প্রথমে দেখতে হবে, যে শিক্ষা আমরা দিতে চাই, সেটা বহন করার মতো শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সক্ষমতা আছে কি না। শিক্ষকের ক্ষেত্রে সংখ্যা আর মান, দুটোই জরুরি। দুটোতেই বাংলাদেশ পিছিয়ে।—অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, আইইআর, ঢাবি

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সমস্যা 
নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের জন্যও পরিবেশটা প্রতিকূল। অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পুরো ব্যবস্থাকে বিষাক্ত করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকদের নিয়োগ হয় মেধার বদলে রাজনৈতিক সংযোগের ভিত্তিতে, বদলি হয় প্রভাবের ভিত্তিতে, পদোন্নতি হয় সামর্থ্যের বদলে আনুগত্যের ভিত্তিতে। তিনি সতর্ক করেন, এতে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে পড়ে। এটা অযোগ্যতাকে পুরস্কৃত করে, পেশাদারিত্বকে ধ্বংস করে। 

অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষা কমিশন যদি সত্যিই কার্যকর করতে হয়, তাহলে সেটা আমলানির্ভর হওয়া যাবে না। আবার শুধু দলীয় বুদ্ধিজীবীদের দিয়েও গঠন করা যাবে না। এমন বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে নিয়োগ ব্যবস্থা সাজাতে হবে যারা শিক্ষাবিজ্ঞান বোঝেন, মূল্যায়ন বোঝেন, কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক বোঝেন, শিক্ষণ-পদ্ধতি বোঝেন। 

গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, একজন শিক্ষক একাই একাধিক শ্রেণি সামলাচ্ছেন

প্রশিক্ষণের ঘাটতি 
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেও বড় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস্ রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের এমন মানুষদের আকৃষ্ট করতে হবে, যারা শুধু ভালো ছাত্র নয়, শিক্ষা খাতে অবদান রাখার আগ্রহও রাখেন। এটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগে সচেতন হতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। 

তিনি বলেন, কারিকুলাম যেটাই হোক, ফিনিশ, জাপানি বা অন্য কিছু, শেষ পর্যন্ত সেটা বাস্তবায়ন করবেন শিক্ষকই। ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি বাস্তবমুখী, মুখস্থবিদ্যার ওপর নয়, ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর জোর দেয়। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার প্রশিক্ষিত শিক্ষক, আর সেই শিক্ষক তৈরি করতে দরকার প্রশিক্ষণ, উৎসাহ আর প্রণোদনা। 

তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, আমি কেন গ্রামে গিয়ে শিক্ষকতা করব। এখানে মানসিক মোটিভেশন যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন আর্থিক মোটিভেশনও। এটা না দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বেতনের শিক্ষকেরা প্রায়ই বাড়তি আয়ের জন্য প্রাইভেট টিউশনির দিকে ঝোঁকেন। এটা তাদের ব্যক্তিগত দোষ নয়। সরকার বা প্রতিষ্ঠান যদি পর্যাপ্ত বেতন না দিলে বিকল্প আয়ের পথ খোঁজাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা। সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়িয়ে ক্লান্ত শিক্ষক পরদিন স্কুলে যতটা মনোযোগ দেওয়ার কথা, তা দিতে পারেন না। যিনি নিজের কোচিং ক্লাসে বেশি আগ্রহী, স্কুলের ক্লাসে তিনি কার্যকরভাবে পড়াতে পারেন না। ফলে যেসব শিক্ষার্থী প্রাইভেটের খরচ জোগাতে পারে, তারা এগিয়ে থাকে। যারা পারে না, তারা আরও পিছিয়ে পড়ে। 

কারিকুলাম যেটাই হোক, ফিনিশ, জাপানি বা অন্য কিছু, শেষ পর্যন্ত সেটা বাস্তবায়ন করবেন শিক্ষকই। ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি বাস্তবমুখী, মুখস্থবিদ্যার ওপর নয়, ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর জোর দেয়। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার প্রশিক্ষিত শিক্ষক, আর সেই শিক্ষক তৈরি করতে দরকার প্রশিক্ষণ, উৎসাহ আর প্রণোদনা।—অধ্যাপক শামস্ রহমান, উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, একটা স্বাধীন শিক্ষক পরিষদ দরকার; যা মন্ত্রণালয়ের বাইরে থেকে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও বেতন দেখভাল করবে। এতে রাজনীতি সরে যাবে শিক্ষক ব্যবস্থাপনা থেকে, সিস্টেমটাও পেশাদার হয়ে উঠবে।

অধ্যাপক মজিবুর রহমান চান আলাদা বেতনকাঠামো। তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য থাকা উচিত স্বতন্ত্র পে-স্কেল, সঙ্গে উন্নত পেশাগত সুবিধা। শিক্ষকতাকে যদি সত্যিই একটা সম্মানজনক পেশা করে তুলতে হয়, তাহলে বেতন ও মর্যাদা দুটোতেই পরিবর্তন আনতে হবে। 

অধ্যাপক শামস্ রহমান জোর দেন প্রশিক্ষণ আর প্রণোদনায়। তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, উৎসাহ দিতে হবে, আর্থিক প্রণোদনাও দিতে হবে। বদলি বা রোটেশন পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, একজন শিক্ষককে সারাজীবন গ্রামে আটকে না রেখে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়ে পরে বদলি করা যায়। একসময় প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের আলাদা ব্যবস্থা ছিল। সেটা কাজ করত। এখন সেটা কতটা কার্যকর আছে জানা নেই, তবে সেটাকেই নতুন করে চাঙা করা দরকার। 

অধ্যাপক রিজওয়ান খান শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার উপর জোর দিয়ে বলেন, “আজ যে শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তিনি কি আগামী দশ বছরের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে পারবেন? প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এসব নিয়ে আজ যতটা না ভাবা হচ্ছে, আগামী দশ বছরে তার গুরুত্ব আরও বাড়বে। তাই শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণকে শুধু আজকের চাহিদা নয়, আগামী দিনের চাহিদার নিরিখে সাজাতে হবে।”

সত্তর হাজার প্রতিষ্ঠান, ষাট হাজার দুইশ পঁচানব্বইটি খালি পদ- এই সংখ্যার পেছনে আছে প্রতিদিনের হাজারো ক্লাসরুম, যেখানে একজন মানুষকেই টানতে হচ্ছে এমন দায়িত্ব, যা একার কাঁধে দেওয়ার কথা নয়। সংখ্যার ঘাটতি, মানের ঘাটতি, প্রণোদনার অভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, প্রশিক্ষণহীনতা, এই সবকিছু জড়ো হয়ে আছে সেই একই খালি পদগুলোতে। এই সংকট না মিটিয়ে বাকি সব সংস্কার আসলে ভাঙা দেয়ালে রং করার মতো। 

বাংলাদেশের হাতে বিশ্বের সেরা শিক্ষাক্রম থাকতে পারে। কিন্তু শিক্ষক যদি প্রশিক্ষিত, প্রণোদিত আর যথাযথভাবে মূল্যায়িত না হন, সেই শিক্ষাক্রম ব্যর্থ হতে বাধ্য। অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, “শিক্ষা শেষ পর্যন্ত মানুষের বিষয়। শিক্ষকদের মধ্যে বিনিয়োগ না করলে আসলে বিনিয়োগ করা হচ্ছে ব্যর্থতায়। শিক্ষকতাকে সেরা ও মেধাবীদের জন্য সত্যিকারের আকর্ষণীয় পেশা না করা পর্যন্ত সত্তর হাজার স্কুলের সেই শূন্য পদ শূন্যই থেকে যাবে। আর এই ব্যবস্থা তৈরি করেই যাবে এমন স্নাতক, যারা মুখস্থ করতে পারে, চিন্তা করতে পারে না।” 

এই ধারাবাহিকের শেষ পর্বে থাকছে নতুন সরকার কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কতটা টিকে থাকার ইঙ্গিত দেয়। একইসাথে থাকবে- বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সত্যিকার অর্থে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত একটি রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত। 

চলতি ধারাবাহিকের প্রথম পর্বের সংবাদ পড়ুন: আইসিইউ প্রজন্ম: যে শিক্ষা পাস করায়, চিন্তা করতে শেখায় না 

চলতি ধারাবাহিকের দ্বিতীয় পর্বের সংবাদ পড়ুন: পাঁচ দশকে আট নীতি ও কমিশন: অচলাবস্থায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা

চলতি ধারাবাহিকের তৃতীয় পর্বের সংবাদ পড়ুন: অসম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ছে বৈষম্যের ভবিষ্যৎ 

মেসি-আর্জেন্টিনার সামনে নতুন ইতিহাসের হাতছানি
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
ইংল্যান্ডকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
মার্তিনেজের গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত গোলে সমতায় আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস মেসির
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনার জাল কাঁপাল ইংল্যান্ড
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence