বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অধিদপ্তর ও বোর্ডের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আগামী ৭ জুন ক্লাসে ফিরছেন সরকারি-বেসরকারি কলেজ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং জগন্নাথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস হবে পরদিন ৮ জুন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই ছুটির তারতম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গিয়ে ঠেকেছে ২১ জুন পর্যন্ত। পরদিন ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লাস শুরু হবে।
শুধু পবিত্র ঈদুল আজহা-ই নয়— প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটির ক্যালেন্ডার বলছে, বছরে ঢাবি শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ছুটি কাটান। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি কলেজ। আর তৃতীয় অবস্থানে ইবতেদায়ি থেকে কামিল পর্যায়ের আলিয়া মাদ্রাসা। এর মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ দিন। সরকারি-বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে এই ছুটি ৭২ এবং মাদ্রাসার ক্ষেত্রে সেটি ৭০ দিন।
চলতি ঈদুল আজহার ছুটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে গত ২৪ মে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়। তবে ২২ ও ২৩ মে শুক্র ও শনি সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় মূলত আরও দুদিন আগেই ছুটি শুরু হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে ৭ জুন ক্লাস শুরু হচ্ছে, দাপ্তরিক হিসেবে তাদের ছুটি শেষ হবে ৪ জুন। তবে ৫ ও ৬ জুন শুক্র-শনি হওয়ায় রবিবার ক্লাস শুরু হবে। এ হিসেবে এই ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে মোট ১৫ দিন এবং সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিলে ১১ দিন বন্ধ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: পবিপ্রবিতে জিয়া পরিষদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নেতাদের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব
একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মোট ১৬ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মোট ৩১ দিনের ছুটিতে রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ মে থেকে। প্রতিষ্ঠানটিতে সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতি ও শুক্রবার হওয়ায় মূলত ২১ মে থেকেই বন্ধ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা, যা শেষ হবে ১২ জুন। এ হিসেবে চলতি ঈদুল আজহার ছুটি ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা বন্ধ পেয়েছেন ২২ দিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ২১ মে ছুটি শুরু হয়েছে, যা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। এ নিয়ে মোট ২৫ দিন বন্ধ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
বার্ষিক ছুটিতে ব্যাপক ব্যাবধান
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডর অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিলে প্রায় ২৬১ কর্মদিবসের মধ্যে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭৫ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এসব ছুটির আগে-পরের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আরও অন্তত ২৫ থেকে ২৮ দিন বেশি ছুটি কাটাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। এ হিসেবে ৩৬৫ দিনে এক শতাধিক দিন ছুটি কাটাচ্ছেন তারা।
সাপ্তাহিক ছুটি বাদে দেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজে ২০২৬ সালে মোট ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ দিন। এরপরই রয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের মাদ্রাসার অবস্থান। প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৭০ দিন ছুটি দেওয়া হচ্ছে এ বছর। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ বছর ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ দিন। এ ছুটির মধ্যে প্রতিষ্ঠানদের সংরক্ষিত ছুটির এখতিয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: পাবলিক-প্রাইভেট ও ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়— কে বড়, কে ছোট দ্বন্দ্বে যাওয়া উচিত হবে না
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের অন্যান্য উচ্চ বিদ্যাপীঠের মধ্যে সর্বোচ্চ ছুটি কাটান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিলে এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন ৬৪ দিনের ছুটি। এ ছাড়া উপাচার্যের বিবেচনায় আরও তিন দিন ছুটি ধার্য রয়েছে। এরপরেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। এ শিক্ষাবর্ষে ৬৩ দিন ছুটি পাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটির তালিকায় তুলনামূলক পিছিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানটিতে চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫৩ দিন এবং উপাচার্যের বিবেচনায় অতিরিক্ত ৩ দিন মিলিয়ে মোট ৫৮ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। তবে সবচেয়ে পিছিয়ে চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ছুটি ৫৩ দিন। তবে এর অতিরিক্ত আরও ৫ দিন উপাচার্যের বিবেচনাধীন রয়েছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ৭৫ দিন ছুটি পাচ্ছেন, সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছুটি পাচ্ছেন ৪৮ দিন। এর মধ্যে উপাচার্যের বিবেচনাধীন ৩ দিনের ছুটি অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ও বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান উপলক্ষেও ছুটি পান প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা।