কলেজের অধ্যক্ষের হাতে বেসরকারি কর্মচারীদের সরকারিকরণের ক্ষমতা প্রদানসহ তিন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীরা। বুধবার মহান মে দিবসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এসব দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি মো. দুলাল সরদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবর রহমানের নেতৃত্ব দেন।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো বেসরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের তারিখ থেকেই জাতীয়করণ করতে হবে এবং জাতীয়করণের আগ পর্যন্ত সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতনভাতা প্রদান করতে হবে।
বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা। জাতির জনক ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের সমর্থন দিয়েছিলেন। এদেশে নিম্ন আয়ের চতুর্থ শ্রণির কর্মচারীদের বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে জাতির পিতা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই মহান নেতার কন্যা হিসেবে আপনার কাছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই দিকটা বিবেচনা করে তিনটি দাবি মেনে নেয়ার জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।’
তারা বলেন, ‘একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি যেখানে সাড়ে আট হাজার টাকা এবং ওভারটাইম দিয়ে তাদের বেতন সর্বোচ্চ ১৫ জাজার টাকা, সেখানে মাসিক বেতন হিসেবে আমরা পাই মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। আমরা সারাদিন কাজ করেও কোনো ওভারটাইম পাই না। এই স্বল্প আয় দিয়ে বর্তমান বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে জীবনযাপন সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পরও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে পারছি না। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’
বেসরকারি কর্মচারীরা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি কলেজে যেখানে সরকরি কর্মচারী থাকার কথা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ, সেখানে বর্তমানে রয়েছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। বেসরকারি কর্মচারী হিসেবে আমরা সারা বছর কলেজ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের আদেশ যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি, কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার আমাদের প্রতি কোনো সহানুভুতি দেখায় না।’
তারা আরও বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ২০ বছরে যাবৎ সরকারি কলেজে বেসরকারিভাবে কর্মরতদের এখন পযর্ন্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রেও কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। উপায় না পেয়ে বেঁচে থাকা এবং দাবি আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করছি, এ ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।‘