বই উৎসব © ফাইল ফটো
নতুন বছরের প্রথম দিন পালিত হয়ে আসছে বই উৎসব। আসছে ১ জানুয়ারি টানা দশমবারের মতো এই উৎসব হওয়ার কথা। তবে এবার তালগোল বাঁধিয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সূত্র বলছে, ১ জানুয়ারি উৎসবের আগের দিন অর্থ্যাৎ ৩০ ডিসেম্বর ভোটের পর শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী থাকবেন না। স্বভাবতই কে এই উৎসব উদ্বোধন করবেন; সেটি নিয়ে ধোঁয়াশায় দুই মন্ত্রণালয়। বাধ্য হয়েই তারিখ পেছানো হচ্ছে। তবে কবে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে; সে সম্পর্কে কিছু হয়নি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) জাবেদ আহমেদ জানান, ‘নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে পাঠ্যবই বিতরণের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের নিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের পরে কোনো মন্ত্রী থাকবে না, কে উদ্বোধন করবেন-এটি নিয়েও সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের কয়েকদিন পর পাঠ্যপুস্তক উৎসবের আয়োজন করা হবে।’
তথ্যমতে, প্রতিবছর কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে বই উৎসব পালন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বই উৎসব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে ওই উৎসবের আয়োজন করে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎসবের প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নিয়ে রেখেছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত বই উৎসবের তারিখ ঘোষণা না করার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্বে। ফলে উৎসবটি কবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাই শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের কারণে পহেলা জানুয়ারিতে পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালন করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের পরেরদিন দেশের সব বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এ সময় সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। তাই পহেলা জানুয়ারিতে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালন করা কঠিন হতে পারে।
খোঁজে জানা যায়, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট বইয়ের সংখ্যা ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি। ইতোমধ্যে সারাদেশে ৯৫ শতাংশ বই পৌঁছে গেছে। এর আগে ২০১৮ সালে চার কোটি ৪২ লাখ চার হাজার ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই তুলে দেয়া হয়েছিল।
তথ্যমতে, গত আট বছরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০টি বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সরকার। অর্থাৎ গত ৯ বছরে ২৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার ২৯০ কপি বই দেওয়া হয় শিক্ষার্থী, যা বিশ্বেও এক বিরল দৃষ্টান্ত, অনন্য নজির।