নতুন পে-স্কেল
পে স্কেল © সংগৃহীত
বিসিএস, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক, সরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারসহ বিভিন্ন প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগ শুরু হয় ৯ম গ্রেডে। যেগুলো অন্যান্য শ্রেণির চাকরি শুরু হয় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে। ১০ম গ্রেড দ্বিতীয়, ১১ থেকে ১৩তম গ্রেড ৩য় এবং পরবর্তীগুলো ৪র্থ শ্রেণির সরকারি চাকরি হিসেবে পরিচিত।
২০২৫ সালের ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, ৯ম গ্রেডের চাকরি শুরু হয় মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা দিয়ে। নতুন বেতনকাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা। কোনো কোনো পদে যোগদানের সময় একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টও দেওয়া হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট পদের মূল বেতন আরও বেশি হতে পারে। এর বাইরে মূল বেতনের নির্দিষ্ট হারে বাড়িভাড়া—জেলা শহরে ৪০%, ঢাকায় ৫০% এবং অন্যান্য বিভাগে ৪৫% পান তারা।
তবে গ্রেড ও এলাকাভেদে এতে আরও কিছু ভিন্নতা আছে। রয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, সন্তানের জন্য শিক্ষাসহায়ক ভাতা, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা এবং সরকারি দায়িত্ব ও যাতায়াতের জন্য টিএ বা ডিএসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা।
১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০% কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০% এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০% কার্যকর হবে। তাদেরও সব ভাতা যোগ হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অবশ্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে চালু থাকা ১৫% ‘বিশেষ সুবিধা’ অবলুপ্ত বা বাতিল হয়ে যাবে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০% বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৫% এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫% কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীরা প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত বেতনের ৫০%, দ্বিতীয় ধাপে মোট ৭৫% এবং তৃতীয় ধাপে পুরো ১০০% পাবেন। নতুন হারে সব ভাতা পাবেন ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
একজন নতুন চাকরিজীবী চলতি বছরের জুলাইয়ে ৯ম গ্রেডে যোগ দিলেন, তার বেতনের হিসাবটা তুলনামূলক সহজ। পুরোনো কাঠামোয় নবম গ্রেডের মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। প্রথম ধাপে ৪০% বাড়লে তা হবে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০%, অর্থাৎ ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হবে। তখন মূল বেতন দাঁড়াবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হলে মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা।
অবশ্য এই সময়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হলে মূল বেতন আরও বাড়বে। ৯ম গ্রেডের শুরুর মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেতনের হিসাব একেকজনের একেক রকম হবে এবং তা কিছুটা জটিলও। আবার পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এত দিন ধরে চালু থাকা ১৫% ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হবে।
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হারে ভাতাগুলো কার্যকর হবে। তখন ঢাকায় কর্মরত ৯ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে ৫০% বাড়িভাড়া হিসেবে ২২ হাজার টাকা যোগ হবে। এর সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। নতুন করে সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী মোবাইল ভাতাও পাবেন। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ৯ম গ্রেডে নতুন যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার মোট বেতন-ভাতা কমবেশি ৭০ হাজার টাকা হতে পারে।
১০ম গ্রেডে চাকরির শুরুতে পুরোনো মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা শুরুতে হবে ৩২ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
প্রথম ধাপে ৫০% বাড়লে ১৬ হাজার টাকা থেকে মূল বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫%, অর্থাৎ ৪ হাজার টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন হবে ২৮ হাজার টাকা। তৃতীয় ধাপে আরও ৪ হাজার টাকা যোগ হলে মূল বেতন দাঁড়াবে ৩২ হাজার টাকায়। এর সঙ্গে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। মূল বেতন বেড়ে গেলে সেই হারে বাড়িভাড়াও বৃদ্ধি পায়। ফলে দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হবে।
নতুন চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে হিসাবটা তুলনামূলক সহজ হলেও পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে তা এতটা সরল নয়। কারণ, তাদের বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুবিধার ওপর মোট বেতন নির্ভর করবে।
১৩তম গ্রেডের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে শুরু হতো। এখন তা শুরু হবে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে এই মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ার প্রথম ধাপে একজন সহকারী শিক্ষকের মূল বেতন হবে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। আর বেতনকাঠামো সব ধাপে কার্যকর হয়ে ভাতাগুলো যোগ হলে মোট বেতন হবে ২৪ হাজারের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হয়ে ৪০ হাজারের কাছাকাছি হবে।
বেতনকাঠামায় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। তিন ধাপে নতুন বেতন পুরোপুরি কার্যকর হলে এই গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। অর্থাৎ, সরকারি চাকরিজীবী সবারই কমবেশি বেতন-ভাতা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে নতুন চাকরিজীবীদের বেতন হিসাব করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু যারা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন, তাদের বর্তমান মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্ট একেক রকম হওয়ায় নতুন কাঠামোয় বেতনও একেক রকম হবে। তাই সবার বেতন একই হারে বাড়বে না।