অনলাইন ব্যবসায় সাফল্য পেতে পার হতে হবে এই ১০ ধাপ

বাংলাদেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা
বাংলাদেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা  © বিবিসি

বাংলাদেশে সম্প্রতি অনলাইন ব্যবসা বা ই-কমার্স অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তো বটেই, নতুন উদ্যোক্তাদের অনেকে সরাসরি ওয়েবসাইট খুলে অনলাইনে সেবা ও পণ্য বিক্রির ব্যবসা শুরু করছেন। আবার অনেকের ব্যবসা ফেসবুক ভিত্তিক। সব ধরণেই পণ্যই এখন বাংলাদেশে অনলাইনে কেনা-বেচা হয়। এর মধ্যে পচনশীল দ্রব্য- ফলমূল, শাকসবজি যেমন আছে, তেমনি কাপড়-চোপড় ইলেকট্রনিক দ্রব্যও আছে।

বাংলাদেশের ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনে নিবন্ধিত সদস্য রয়েছে এক হাজার তিনশ’। তবে সংগঠনটির হিসাবে, অনিবন্ধিত ও ফেসবুক মিলিয়ে লক্ষাধিক ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু একজন সফল অনলাইন উদ্যোক্তা হতে হলে তাকে কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে? দেশের অনলাইন উদ্যোক্তা, ই-কমার্স ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আর এই খাতের ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে একটি ধারণা দিয়েছেন। তাদের মতে অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে পার হতে হবে ১০টি ধাপ।

১. পরিকল্পনা: আগে ভাবুন কি পণ্য বা সেবার ব্যবসা করবেন? অনলাইন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই একবাক্যে বলছেন, যেকোনো ব্যবসা শুরু করার আগে সেটা নিয়ে পরিকল্পনা জরুরি। তিনি কী বিক্রি করতে চান, সেটা কোথা সংগ্রহ করা হবে, কতদিন সেটা চালিয়ে যেতে পারবেন। পরবর্তী ধাপগুলো কি হবে, সেগুলো পরিকল্পনা করতে হবে। কয়েক বছর আগে বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি ফেসবুকে ‘অল্প স্বল্প গল্প’ নামের একটি পেজ খুলে সাজসজ্জার সরঞ্জাম বিক্রি করতে শুরু করেন ইসমাত জাহান মেঘলা, এখন তার এই পাতাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি ওয়েবপেইজ খোলার উদ্যোগও নিচ্ছেন।

‘আমি ভাবলাম, চাকরির পাশাপাশি আমি কি করতে পারি? আমি চারুকলায় পড়েছি, ডিজাইন করতে ভালো লাগে। তখন আমি নানা গহনার নকশা করতে শুরু করলাম। এরপর সেইসব গহনা আমার পাতায় বিক্রির জন্য যখন তুলেছি, বেশ সাড়া পেলাম’, বলছিলেন ইসমাত জাহান মেঘলা। তিনি বলছেন, অন্যরা করছে দেখে যেকোনো ফেসবুকে একটা পাতা খুলে ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু সেখানে যদি আগ্রহ, একাত্মতা, নতুন কিছু করার চেষ্টা আর সততা না থাকে, তাহলে সেটা টিকে থাকতে পারবে না।

ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) যুগ্ম মহাসচিব নাসিমা আক্তার নিশা বলেন, যেকোনো ব্যবসা শুরুর আগেই প্রথম কাজ হচ্ছে পরিকল্পনা। কি করতে চান, কীভাবে করতে চান।

২. ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা: ই-কমার্স উদ্যোক্তারা বলছেন, অনলাইনে এখন হাজার হাজার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে টিকে থাকতে হলে, প্রতিযোগিতায় সফল হতে হলে ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। ইসমাত জাহান মেঘলা তার এই পাতাটি খোলার আগে গহনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। কিন্তু গহনা সংগ্রহ করেই ছবি তুলে তিনি বিক্রি করতে শুরু করেননি। বরং সেগুলোয় নতুনত্ব যোগ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন কোথাও বেড়াতে যাই, দেশের ভেতর বা বাইরে, সেখানকার স্থানীয় গহনা নিয়ে আসি। এরপর সেটার সঙ্গে আমার নিজের মনের মতো নকশা মিলিয়ে নতুন ধরণের একটা কিছু তৈরি করি। আমার মনে হয়, গ্রাহকরা সেটাই বেশি পছন্দ করেছে। ফেসবুকে একটা পাতা খুলে, বাজার থেকে পণ্য কিনে এসে বিক্রি করতে শুরু করে দিলাম। কিন্তু সেটা যদি মানসম্মত না হয়, গ্রাহক যদি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে কিন্তু তিনি আর এই ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবেন না। আর এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হয়েছে। সেখানে নিজের জায়গা করে নিতে হলে অবশ্যই গতানুগতিকতার বাইরে, ব্যতিক্রমী কিছু নিয়ে আসতে হবে।’

৩. নাম নির্বাচন: আকর্ষণীয়, ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। ই-কমার্স বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুক হোক আর ওয়েবসাইট হোক, ই-কমার্সের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনলাইন জগতে আকর্ষণীয় নাম না হলে মনে রাখতে চায় না। চাল, ডাল, তেল, ডিম থেকে শুরু করে পারিবারিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়, এমন একটি ই-কমার্স সাইটের কর্মকর্তা ইফফাত ই ফারিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানের নামটি আকর্ষণীয় হওয়া উচিত। তাহলে মানুষ সহজেই যেমন সেটা মনে রাখতে পারবে। আবার ব্যবসার ধরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলে সেটা তাদের প্রয়োজনের সঙ্গেও মিলে যাবে।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, আপনার ব্যবসা হয়তো জনপ্রিয়তা পেল, কিন্তু যখন আপনি ওয়েবসাইট খুলতে যাবেন, দেখা গেল, এই নামে অন্য কেউ আগেই ডোমেইনটি নিয়ে নিয়েছে। ফলে নিজের প্রতিষ্ঠানের নামের ডোমেইন নিশ্চিত করতে হলে, এখনি ওয়েবসাইট খোলার পরিকল্পনা না থাকলেও ডোমেইনটি অন্তত কিনে রাখা উচিত।’

বাংলাদেশ ও বিভিন্ন জনপ্রিয় ডোমেইন রিসেলার সাইট থেকে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১১০০টাকার মধ্যে ডোমেইন কেনা সম্ভব। এক্ষেত্রে ডোমেইনটি হওয়া উচিত সংক্ষিপ্ত, সহজে মনে রাখার উপযোগী এবং এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) বান্ধব।

৪. ব্যবসা চালু করা: ইসমাত জাহান মেঘলা ফেসবুকে একটি পেজ খুলে তার ব্যবসা শুরু করেছেন। আবার ‘আমার ফুড’-এর মতো প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খাদ্য পণ্য সরবরাহ করতো। তারা পরবর্তীতে ফেসবুকে পেজ খোলার পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন। উদ্যোক্তারা বলছেন, একেবারের শুরুর দিকে ফেসবুকে পাতা খুলে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। কারণ এক্ষেত্রে বিনিয়োগ খুব কম লাগে।

ইফফাত ই ফারিয়া বলছেন, অনলাইন ব্যবহারকারীদের প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করায় এখান থেকে গ্রাহক পাওয়া, গ্রাহকদের কাছে নিজের পরিচিতি তুলে ধরা সহজ। ফলে ওয়েবসাইট থাকলেও প্রায় সবারই ফেসবুক পাতা থাকে।

ফেসবুকে বুস্টিং, অর্থাৎ নিজের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেয়ার মাধ্যমে অপরিচিত মানুষদের কাছে প্রতিষ্ঠানের সংবাদ পৌঁছে দেয়া যায়। বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। ফলে এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পণ্য বা সেবার তথ্য তুলে ধরা সম্ভব। কত মানুষের কাছে বিজ্ঞাপনটি পৌঁছাতে চান, তার ওপরে এ ধরণের বুস্টিংয়ের চার্জ নির্ভর করে। এরপর গ্রাহকদের সাড়া পেলে আস্তে আস্তে ওয়েবসাইট নির্মাণ করা যায়। বাংলাদেশে ১৫ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে ওয়েবসাইট নির্মাণ সম্ভব।

৫. আইনি নিবন্ধন: বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে যারা পণ্য বা সেবা বিক্রির ব্যবসা করছেন, তাদের বেশিরভাগেরই কোন আইনগত নিবন্ধন বা বৈধতা নেই। এমনকি ওয়েবসাইট খোলা, ওয়েবসাইটে ব্যবসা করা বা ই-কমার্সের ক্ষেত্রে দেশে এখনো কোন আইন নেই। তবে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব নাসিমা আক্তার নিশা বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও যারা ই-কমার্স ব্যবসায় স্থায়ী হতে চান, তাদের উচিত অন্তত একটা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করা। তাহলে সেই ব্যবসার একটা আইনগত বৈধতা তৈরি হয়।

সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভায় সামান্য কিছু ফি দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করা যেতে পারে। তবে এখনো বাংলাদেশে শুধুমাত্র ই-কমার্স হিসাবে কোন খাত নেই। এক্ষেত্রে আইটি খাতে এসব ট্রেড লাইসেন্স করা যেতে পারে। তবে ই-কমার্সকে ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আলাদা একটি খাত হিসাবে অন্তর্ভুক্তির জন্য অনেকদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, সামনের বছর নাগাদ সেটি বাস্তবায়ন হতে পারে।

৬. ব্যাংক হিসাব: ট্রেড লাইসেন্সের পরেই প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ব্যাংক হিসাব চালু করার পরামর্শ দিচ্ছেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নাসিমা আক্তার নিশা। তিনি বলেন, ব্যবসা বড় হলে, অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করতে হলে ব্যাংক হিসাবের দরকার হবে।

এখন বাংলাদেশেও ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ছে। ফলে এই সুবিধা নিতে হলে ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। ব্যাংকের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ভবিষ্যতে ব্যবসায় ঋণ পাওয়াও সহজ হবে।

৭. পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দিন। বাংলাদেশের একটি বড় ই-কমার্স সাইটের কর্মকর্তা ইফফাত ই ফারিয়া বলেন, ‘গ্রাহকের কাছে শুধু পণ্যটি বিক্রি করাই শেষ কথা নয়, সেটা প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। কারণ পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হলে গ্রাহক এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে বিরূপ মনোভাব তৈরি হতে পারে। আর যারা আমাদের মতো নানা কাঁচাপণ্য বিক্রি করছেন, তাদের যত চ্যালেঞ্জই থাকুক, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পণ্যটি পৌঁছে দেয়ার কাজটি সম্ভব করতে হবে।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনেকেই অন্য স্থান থেকে পণ্য সরবরাহ করে সেটি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেন। এক্ষেত্রে তাদেরও এমন একটি চেইন তৈরি করতে হবে যাতে, তারাও পণ্যটি সঠিক সময়ে হাতে পান। অনলাইনে নদী ও সাগরের মাছ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ফিশ বাংলা’র উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আমি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতাম। মাছ খেতে ভালো লাগতো, বাসার জন্য অনেক মাছ কিনে আনতাম। এভাবে বিভিন্ন স্থানের মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটা যোগাযোগ তৈরি হয়। যখন আমি অনলাইনে ব্যবসা শুরু করলাম, তখন তাদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করলাম। এখন তারা বড় মাছ ধরলে আমাকে জানায়। সেই অনুযায়ী আমি গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্ডার নেই। তারাও ঠিক সময়ে পাঠিয়ে দেয়, আমিও ঠিক সময়ে সরবরাহ করতে পারি।’

এজন্য বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ ও চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছেন ই-কমার্স উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশে এখন অন্তত ২০টি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ই-কমার্স খাতের সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি নিজেদের ডেলিভারি ম্যান নিয়োগ করা যেতে পারে, যার দ্রুত কাছাকাছি থাকা গ্রাহকদের পণ্য পৌঁছে দেবেন।

৮. গ্রাহক সেবা: নিজের অবস্থান তৈরি করুন। ইফফাত ই ফারিয়া বলেন, পণ্য সরবরাহের পরে গ্রাহক সন্তুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ‘কারো যদি পণ্য নিয়ে আপত্তি থাকে, যে পণ্য বা ছবি, রঙ ইত্যাদি দেয়ার কথা, সেটা না হলে ভিন্ন কিছু হয়, তাহলে সেটা তাক্ষৎনিকভাবে ফেরত নেয়া, বিকল্প পণ্য বা মূল্য ফেরতের ব্যবস্থাগুলো থাকতে হবে। এরকম অভিযোগ তৈরি হলে সেটা যত তাড়াতাড়ি সমাধান করা যাবে, ওই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য সেটাই মঙ্গল।’

তিনি বলেন, ‘গ্রাহক একবার অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেলে তাকে হয়তো আর পাওয়া যাবে না। বরং খারাপ রিভিউ আরও অনেক গ্রাহককে ফিরিয়ে দেবে। সুতরাং ই-কমার্সে টিকে থাকতে হলে গ্রাহক সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’ সেই সঙ্গে গ্রাহকদের প্রশ্নের জবাব, অভিযোগের জবাব দ্রুত দিতে হবে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট টেলিফোন লাইন বা চ্যাটিং লাইন থাকা ভালো, যেখানে যেকোনো ব্যাপারে একজন গ্রাহক তাৎক্ষনিক উত্তর পাবেন।

৯. ধৈর্য: সাফল্য একদিনেই আসবে না। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নাসিমা আক্তার নিশা বলেন, ‘ই-কমার্স অনেক বড় একটি জায়গা। এখানে নতুন কিছু নিয়ে এসে কেউ তাড়াতাড়ি সফলতা পেতে পারে, কিন্তু সবার সফলতা কিন্তু একবারে আসবে না। সেক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে ব্যবসায় টিকে থাকতে হবে। গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা গেলে একসময় সফলতা আসবে।’ বাংলাদেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ই-কমার্স খাতে সফল হতে সময় লেগেছে। কিন্তু গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের পর তাদের সফলতা বহুগুণ বেড়েছে।

১০. নতুন বাজার ও গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো: ই-ক্যাবের হিসাবে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ই-কমার্সের আকার ছিল মাত্র ৪৫০ কোটি টাকার। বর্তমানে এটি সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ই-কমার্স খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর ই-কমার্সের বাজার বড় হচ্ছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের এই প্রকোপের সময় অনলাইন ভিত্তিক পণ্যের বাজার রাতারাতি অনেক বেড়ে গেছে।

কিন্তু এখনো প্রধান শহরগুলোর বাইরে ই-কমার্সের সেবা পুরোপুরি পৌঁছায়নি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষজন এখনো ই-কমার্স সেবার বাইরে রয়েছে। নাসিমা আক্তার নিশা বলেন, ই-কমার্স খাতে সফল হতে হলে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। বিশেষ করে যেসব সেবা বা পণ্যের চাহিদা রয়েছে, যেখানে প্রতিযোগিতা কম, সেরকম অভিনব কিছু তুলে ধরতে পারলে সফল হওয়া সহজ হয়। সূত্র: বিবিসি বাংলা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ