করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের নিম্নবিত্তের আয় ৭৫ ভাগ কমেছে, চরম দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। বাংলাদেশের এনজিও ব্র্যাকের এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। নিম্নআয়ের মানুষের উপর করোনা ভাইরাসের প্রভাব কতটা পড়েছে তা জানতে দুই হাজার ৬৭৫ জনের উপর একটি জরিপ চালিয়েছে ব্র্যাক। করোনার প্রকোপ শুরুর আগে জরিপে অংশ নেয়াদের গড় পারিবারিক আয় ছিল ১৪ হাজার ৫৯৯ টাকা। মার্চে তা নেমে এসেছে তিন হাজার ৭৪২ টাকায়৷ অর্থাৎ, তাদের গড় আয় ৭৫ ভাগ কমে গেছে।
আয়ের ভিত্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ ভাগই চরম বা হতদরিদ্র্যের স্তরে নেমে গেছেন। এ কারণে আগের তুলনায় চরম দারিদ্র্যের সংখ্যা ৬০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বাংলাদেশের সরকার প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তা এখন ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যান চলাচল৷ বিভিন্ন এলাকাকে লকডাউনের আওতায়ও আনা হয়। এসব কারণে দিনমজুর, শ্রমিক থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তরা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
৬৪ টি জেলায় চালানো ব্র্যাকের জরিপ অনুযায়ী, তাদের ৭২ শতাংশের কাজ কমে গেছে, নয়তো তারা আয়ের সুযোগ হারিয়েছেন। আট ভাগের কাজ থাকলেও মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ব্র্যাকের জরিপ চলাকালীন ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবার ছিল না৷ ২৯ ভাগের ঘরে ছিল এক থেকে তিন দিনের খাবার। সরকারের জরুরি ত্রান পৌঁছেছে মাত্র চার শতাংশ মানুষের কাছে।
এমন অবস্থায় যারা গ্রামে ফিরে গেছেন, তাদের কাছে দ্রুত খাদ্য পৌছানোর সুপারিশ করেছে ব্র্যাক। সেই সঙ্গে কৃষক যাতে ফসলের সঠিক দাম পায় সেজন্য আগাম ধান ক্রয় অভিযানের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।