© ফাইল ফটো
বাংলা ভাষার শহীদরা বাংলা হরফে বাংলা লেখার জন্য জীবন দিয়েছেন, রোমান হরফে লেখার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। সম্প্রতি তার ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে ‘বিজয় বাংলা কীবোর্ড ৩.০’ নিয়ে করা এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসাদুজ্জামান সবুজ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ‘অভ্র থেকে বিজয় কি জন্য শ্রেষ্ঠ’ মন্ত্যের উত্তরে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিজয় একটি বিজ্ঞানসম্মত বাংলা কীবোর্ড। অভ্র রোমান হরফে বাংলা লেখে বলে সেটি দিয়ে বাংলা সকল হরফ সঠিকভাবে লেখা যায়না। বিজয় সকল অপারেটিং সিস্টেমে ইউনিকোড এবং আসকি এনকোডিং এ কাজ করে। বিজয় এর আছে ১০৮টি বাংলা ফণ্ট। সকল যুক্তাক্ষর, প্রাচীন বাংলা বর্ণমালা, অসমিয়া ভাষাসহ সকল স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ নির্ভুলভাবে লেখা যায়।
তিনি তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বিজয় বাংলা কীবোর্ড ৩.০ এখন জাতীয় প্রমিত মান। এর বিডিএস নাম্বার ১৭৩৮:২০১৮। সরকারি নিয়ম অনুসারে কেবলমাত্র এই কীবোর্ডই সর্বত্র ব্যবহৃত হবার কথা। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং কেবিনেট ডিভিসন তেমন নির্দেশনাই দিয়েছেন। বাংলাদেশে আর কোন কীবোর্ড এর সরকারি স্বীকৃতি নেই। সবাই প্রমিত মান মেনে চলুন। সরকারি চাকরিতে পরিক্ষা হবে এই কীবোর্ডেই। এখন পর্যন্ত বিজয় ছাড়া এসব মানসম্মত আর কোন কীবোর্ড বা সফটওয়্যার বাংলাদেশে নেই।’
এরপর থেকে মূহুর্তেই ফেসবুকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অভ্র-বিজয় নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তুলনামুলক বিতর্ক দেখা গেছে।
এরআগে মোস্তাফা জব্বার জাতীয় দৈনিক জনকন্ঠের একটি প্রতিবেদনে দাবী করেছেন, হ্যাকাররা তার ‘বিজয়’ সফটওয়্যারটি চুরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি অভ্র কীবোর্ডকে পাইরেটেড সফটওয়্যার হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ইউএনডিপি হ্যাকারদের সহযোগিতা করেছে। ইউএনডিপির প্ররোচনাতেই জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির কাজে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অভ্র কীবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে অভ্রের পক্ষ থেকে মেহদী হাসান খান সকল নালিশ অস্বীকার করে অভিযোগ করেন, জব্বার বিভিন্ন পর্যায়ে ও গণমাধ্যমে তাদেরকে চোর বলেন এবং তাদের প্রতিবাদ সেখানে উপেক্ষিত হয়। কম্পিউটারে বাংলা নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য উকিল নোটিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে আক্রমণের হুমকি উপেক্ষা করে কাজ করা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রকল্পে বাণিজ্যিক বিজয় এর পরিবর্তে বিনামূল্যের অভ্র ব্যবহার করাতে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হওয়ায় জব্বার এমন অভিযোগ করেছেন।
এছাড়া কীবোর্ড বিজয়-রিদ্মিক নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখে গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করা হয় বিজয় বাংলা সফটওয়্যারের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ। এরপর এই অ্যাপটি নিয়ে তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি স্ট্যাটাস দেন মোস্তাফা জব্বার। সেই স্ট্যাটাসে এই জাতীয় অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে বিজয় বাংলা কীবোর্ড লেআউট অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে গুগলের পক্ষ থেকে রিদ্মিক এবং ইউনিবিজয় কীবোর্ডের ডেভেলপারের কাছে পৃথকভাবে ইমেইল নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, মোস্তাফা জব্বার অ্যাপ দুটির বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছেন গুগলের কাছে। আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গুগল যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমসিএ আইন অনুসারে অ্যাপ দুটি অপসারণ করেছে।