নিজেদের প্লাটফর্মে নতুন একটি প্রাইভেসি টুল যুক্ত করতে যাচ্ছে গুগল। এ টুলের মাধ্যমে গুগলের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারকারীদের তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। গুগলের গ্রাহকরা নিজেদের প্রোফাইল মনমতো সাজাতে পারবেন। ওয়েব ব্রাউজিং বিষয়ক তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে দেয়ার সুবিধা মিলবে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
গত বুধবার গুগলের এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, সাধারণত কোনো তথ্য প্রকাশ করার পর সবসময়ই চালু অথবা বন্ধ এ দুটির একটি বেছে নিতে হতো ব্যবহারকারীকে। এখন গুগল প্লাটফর্মে যে পরিবর্তন আসছে, তাতে করে ব্যবহারকারীরা তাদের প্রোফাইল থেকে কোন তথ্যগুলো প্রকাশের তিন মাস অথবা ১৮ মাস পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে, তা নিজেরাই ঠিক করে দিতে পারবেন। গুগল আশা করছে, এ পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রকাশিত তথ্যের ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।
এর মাধ্যমে গুগলের তথ্য সংগ্রহের সময় সব ব্যবহারকারীই আর আপত্তি জানানোর সুযোগ পাবেন না। গুগলের শত শত কোটি ডলার রাজস্ব অর্জনের অন্যতম মাধ্যম বিজ্ঞাপন। গ্রাহকদের পছন্দমতো বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য তাদের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল গুগল। এর ফলে কোনো গ্রাহক যখন গুগলের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় সাড়া না দিয়ে উল্টো ব্লক করে রাখার সুযোগ পায়, তখন প্রতিষ্ঠানটির আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে আসে। এ কারণেই ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ ব্লক করার সুবিধা সীমিত করছে গুগল।
ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার প্রতি গুগল যে শ্রদ্ধাশীল এবং যেসব ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে তাদের কোনো সমস্যা হবে না—এ বিষয়গুলো গ্রাহক ও রেগুলেটরদের বোঝাতে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘাম ঝরাতে হচ্ছে। প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো মারাত্মক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর গত বছর নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুগল প্লাস বন্ধ করে দেয় গুগল।
ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে টার্গেট ক্রেতার তথ্য বিক্রি করে প্রতি বছরই বিপুল অর্থ উপার্জন করছে গুগল ও ফেসবুক। এর সূত্র ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এ দুই প্রতিষ্ঠান। যদিও এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তোলা শুরু করেছেন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে গ্রাহক এবং প্রাইভেসি অ্যাডভোকেটরা।