তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণ-তরুণীদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেরপুরের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। আয়ের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন তারা। আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন হাজারো শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী। তারা নিজের ঘরে বসেই ডলার আয় করছেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয় করতে তাদের আগ্রহের নতুন জায়গা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং।
অনেক যুবক ও যুবনারী মফস্বল শহর বা নিজের ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের কাজ শুরু করে সফল হচ্ছেন। এমন এক তরুণ উদ্যোক্তা শেরপুরের কালীগঞ্জ এলাকার ইফতেখার হোসেন পাপ্পু। ‘ভাগ্য সর্বদায় কর্মঠ ও সাহসীদের পক্ষে’ এ বাণীকে মনেপ্রাণে ধারণ করে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে অগ্রসর হওয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে এগিয়ে চলছে ২২ বছর বয়সী স্বপ্নবাজ তরুণ পাপ্পু।
তিনি শহরের কালীগঞ্জ এলাকার নিজ বাসায় ২০১৪ সালে গড়ে তোলেন ‘বিডি আইটি জোন’ নামে একটি আউটসোর্সিং তথা আইটি প্রতিষ্ঠান। শত শত শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুবনারী ওই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। আইটি বিষয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই প্রথমে ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানের টিউটোরিয়ালের সহযোগিতা নিয়ে তিনি কাজ শেখা শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি প্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেন। যেখানে নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করতে পারেন। এতে ফ্রি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নতুনদের শেখানোর লক্ষ্যে ওয়েব ও ইউটিউবে ভালো টিউটোরিয়াল থাকা জরুরি মনে করা থেকেই তার যাত্রা শুরু হয়।
এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের পরিবর্তনে পাপ্পু এখন সফল ডেভেলপার ও শত শত বেকার যুবক-যুবনারীদের অনুকরণীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এবং তার প্রশিক্ষণার্থী মিলে বিভিন্ন ইন্টারনেটভিত্তিক কাজের পাশাপাশি বিদেশি অনেক কোম্পানির অর্ডার নিয়ে হাজার হাজার ডলার আয় করছেন। তাদের দেখাদেখি জেলার সুহেল, জুয়েল, সুমন, আল-আমিন, পিয়াস, সাব্বিরসহ শত শত শিক্ষিত বেকার এ পেশার মাধ্যমে আয়ের প্রতি ঝুঁকছেন।
বিডি আইটি জোনের প্রধান নির্বাহী পাপ্পু জানান, তিনি ছোটকাল থেকেই সেই দিনের স্বপ্ন দেখতেন, যেদিন ফেইসবুক শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ তরুণরা যেন এটাকে আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। সময়ের ব্যবধানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয় করার উপায় যুক্ত করেছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ। এখন প্রয়োজন শুধু মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের স্থান দখলে আনা।
তিনি আরও বলেন, যারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে আপওয়ার্ক, বিল্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে পারেননি, তাদের উচিত ফেইসবুকে পর্যাপ্ত মার্কেটিং করা। আর তাতে করে ঘরে বসে মাসে ২০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব। সে তার বিডি আইটি জোনের মাধ্যমে ঘরে বসেই দিয়ে যাচ্ছেন দেশ বিদেশে বিভিন্ন আইটি সেবা। স্বপ্ন দেখছেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার।
ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডোমেইন-হোস্টিং সেবা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপিং, মুঠো টিভি-রেডিওর ডিজাইন, মোবাইল এপ্স তৈরি, বাল্ক এসএমএস এবং আইপি ফোন সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বল্পমূল্যে এসব সেবার পাশাপাশি তারা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট রি-ডিজাইন ও আইটি সল্যুশনের কাজ করে যাচ্ছেন। এতে সব খরচ বাদে পাপ্পু ও তার বিডি আইটি টিমের এক ঝাঁক তরুণ মিলে মাসিক আয় করছেন ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। এ ব্যবসার উন্নতি ও দেশব্যাপী বিস্তারের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
তরুণদের চাহিদা অনুযায়ী সরকারিভাবে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের নেতারা। তারা বলেন, প্রশিক্ষণসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এদেশের লাখো শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী হতে পারে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার। এতে করে একদিকে যেমন বেকারত্ব ঘুচবে, অন্যদিকে আয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা।