জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট। তিন সপ্তাহের আলোচনা, সমালোচনা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর আজ মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেটটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামীকাল ১ জুলাই থেকে এই বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে গত ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।
গতকাল সোমবার অর্থবিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে বাজেটে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয় এবং শুল্ক-করের পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উত্থাপিত ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এসব মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব তুললেও কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে যায়।
সবশেষে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বাজেট পাসের আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন যৌক্তিক মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবারের বাজেট আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নিয়ে করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাত নিয়ে তাঁদের মতামত ও সমালোচনা তুলে ধরেন।
এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে প্রস্তাবিত বিতর্কিত বিধানটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে; যেখানে পূর্বে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব ছিল। একই সঙ্গে তিনটি বিশেষ খাতে প্রস্তাবিত নতুন ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত থেকেও পুরোপুরি সরে এসেছে সরকার। এসব সংশোধনী অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত করে সংসদে পাস করা হয়।
পাস হওয়া এই বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায় করা হবে ৬ লাখ ৪... হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৬ শতাংশ। এই বাজেটের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।