প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পরিষদের সভাপতি © সৌজন্যে পাওয়া
দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন (প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল) করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিষদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী নিজে। নতুন এই পরিষদ ব্যবসা, বিনিয়োগ ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরাসরি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) পরিষদের প্রথম সভা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন করা পরিষদের সদস্যরা হলেন- এসিআই পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, বে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান, ইনসেপ্টা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুকতাদির, ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল জাব্বার, র্যাংগস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানা রউফ চৌধুরী এবং প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দেন। পরে পরিষদের সদস্যরা উন্মুক্ত আলোচনায় মতামত দেন। সভায় নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, করনীতি, লজিস্টিকস, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
পরিষদের সদস্যরা এই ফোরাম গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি উন্মুক্ত ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেন। তারা জানান, এই ফোরাম ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পথ বের করতে সহায়ক হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পরিষদ বেসরকারি খাতের মতামতের ভিত্তিতে একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করবে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসা পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে হলে প্রস্তাবনায় অন্যান্য দেশের প্রমাণভিত্তিক আইন, নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দৃষ্টান্ত অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
সরকারি সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে বিডার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করবে। বিডা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন তাদের প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের একটি। এর মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেসরকারি খাতের ধারাবাহিক ও কাঠামোবদ্ধ মতামত দেওয়ার একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হবে।