© টিডিসি ফটো
রাজধানীর কুর্মিটোলায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করায় প্রতিবাদ উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তৃতীয় দিনে মতো বুধবারও মানববন্ধন-সমাবেশ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন ২০১৮-১৯ সেশনের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বক্তব্য রাখেন ছাত্র-ছাত্রীরা।
মানববন্ধনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আঁখি খানম বলেন, আমরা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। পাশাপাশি বাংলাদেশে যে আইন রয়েছে তার ও সংস্কারের প্রয়োজন বলে মনে করি। সংস্কার করে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করা হোক যেন ভবিষ্যতে কেউ ধর্ষণ করার আগে নিজের জীবনের যে অপূর্ণ ক্ষতি হবে তা নিয়ে ভাবতে পারে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার প্রভা বলেন, আমি র্যাবকে ধন্যবাদ জানায়। তারা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ধর্ষককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
ছাত্রী ধর্ষণকারী সেই যুককের নাম মো. মজনু। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। বুধবার দুপুর দেড়টার পর রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণকারী সেই মজনু একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। বিভিন্ন সময় তিনি প্রতিবন্ধী নারী ও ভিক্ষুককে জোর করে ধর্ষণ করতো। সে পেশায় একজন দিনমজুর হলেও, মূলত একজন ছিনতাইকারী। একাই সেদিন তিনি ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বুধবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তাকে রাজধানীর শেওড়া রেলক্রসিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার অভিযানের পর বুধবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তাকে আটক করা হয়। ঘটনার পর বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে তিনি নরসিংদী চলে যায়। পরে আবার ফিরে রাজধানীতে। তিনি বিমানবন্ধর-শেওড়া এলাকায় ভবঘুরে থাকতো।
তিনি বলেন, মজনুর বাড়ি নোখালীর হাতিয়ায়। তিনি বিবাহিত হলেও বর্তমানে তার সঙ্গে পরবিারের কারও সর্ম্পক নেই। ১২ বছর আগে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে বাড়ি ফেরার পথে এক দুর্ঘটনা তার দুটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা দাঁত দিয়ে তাকে সনাক্ত করতে সুবিধা হয় বলে জানান এ র্যাব কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পর ধর্ষণের শিকার হন দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। পরে রাত ১২টার দিকে ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান তার সহপাঠীরা।
এরপর থেকেই ধর্ষককে গ্রেফতার ও শাস্তি দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছে। ধর্ষণের শিকার ছাত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।