© টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর চারদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য’ নামে নতুন একটি জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের ঘোষণা, দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব ও সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াবেএ প্ল্যাটফর্মটি। ১২টি ছাত্র-সংগঠন একত্রিত হয়ে নতুন এই জোট গঠন করলেও এই জোটে দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ-ছাত্রদলকে রাখা হয়নি।
নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে শুক্রবার বিকাল ৩টায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, নাগরিক ছাত্র ঐক্য, ছাত্র গণমঞ্চ এবং স্বতন্ত্র ছাত্রজোট মিলে নতুন এই জোট গঠন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক আখতার হোসেন। আখতার বলেন, দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা ছাত্রদের জোর করে মিছিল-মিটিংয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাদের দখলদারিত্ব চলছে। ক্যাম্পাসে যেন কেউ আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে তা নিশ্চিত করাই আমাদের এই সংগঠনের উদ্দেশ্য।
ছাত্রদলকে এই সংগঠনে রাখা হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয় বলেন, ছাত্রদলের অতীত ইতিহাস ভাল না। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সবকিছু বিবেচনায় আমরা ছাত্রদলকে এই সংগঠনের বাইরে রেখেছি।
‘সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য’র বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ছাত্রলীগ কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন না। আজ যারা এসব অভিযোগ করছে তারা তাদের সরকারবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে ক্যাম্পাসগুলোতে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর। তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়েই রাজনীতি করি। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে আমাদের নজর থাকে কিন্তু সব বিষয়েই হুটহাট কোনো মন্তব্য করি না। যেখানে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করার প্রয়োজন হয় সেখানে ছাত্রলীগ কথা বলে। সেটা জাতীয় হোক বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হোক।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরাও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছি। তবে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য’ সম্পর্কে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আলাদা লড়াই করবো। তবে আমাদের এই সংগঠনে আসার আমন্ত্রণ জানালে আমরা বিষয়টি ভেবে দেখব।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী এমন ঐক্যকে ছাত্রদল সাধুবাদ জানায়। আমরা নিজেরাও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের শিকার। যদিও আমাদের এই সংগঠনে ডাকা হয়নি তবুও মানসিকভাবে আমরা সব সময় এই সংগঠনের পাশে আছি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য’ তাদের চারদফা ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হল- ডাকসুর ভিপি নুরুলহক নুরসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বহিষ্কার ও বিচার করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানিকে অপসারণ করতে হবে। হামলার আহতদের চিকিৎসার ব্যায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে। এছাড়াও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। হলে হলে দখলদারিত্ব, গণরুম, গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন হামলায় আহত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা। হামলায় নুর ও তার সংগঠনের অন্তত ৩৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর আগেও কয়েকবার নুরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ছাত্রলীগ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছে। তবে পুলিশের করা মামলায় ছাত্রলীগ নেতাদের নাম না থাকায় নুর নিজেও শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে ওই দিনের হামলার ঘটনায় নুরুল হক নুরসহ অজ্ঞাত ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে।