সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি-ঘুষের দৌরাত্ম্য, ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ PM
মতলব উত্তরের সাবরেজিস্ট্রি অফিস

মতলব উত্তরের সাবরেজিস্ট্রি অফিস © সংগৃহীত

মতলব উত্তরের সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনকে ঘিরে ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ভূমির দলিল মূল্যের ভিত্তিতে প্রতি লাখে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সাবরেজিস্ট্রার মাহবুবের রহমান ওয়াজেদ, অফিস সহকারী নাসিমা বেগম এবং স্থানীয় দলিল লেখকদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা দলিলগ্রহীতাদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় করছে। দলিল নিবন্ধন শেষে এসব অর্থ প্রধান সহকারীর কাছে জমা দিতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দলিল সম্পাদনে নির্দিষ্ট হারে রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক, স্থানীয় সরকার কর ও উৎসে কর পরিশোধের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতি লাখে পৌরসভায় ৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইউনিয়নে ৭ হাজার ৫০০ টাকা পে-অর্ডার জমা দেওয়ার কথা। তবে বাস্তবে ঘুষসহ মোট আদায় করা হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম জানান, ১৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকার জমির দলিল করতে তার কাছ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, যেখানে সরকারি হিসেবে খরচ হওয়ার কথা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ টাকা।

নবুরকান্দি গ্রামের মো. শাহজাহান জানান নবুরকান্দি মৌজায় ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যার দলিল মূল্য ৭০ হাজার টাকা। সে দলিল লিখকের কাছে ১২ হাজার টাকায় রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু সরকারি হিসাবে দলিল করতে খরচ হওয়ায় কথা ৫ হাজার ২৫০ টাকা।

এদিকে প্রতিবেদকের পরিচয় গোপন রেখে দলিল লিখক শহিদুল্লাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ইসলামাবাদ মৌজায় ২০ শতাংশ জমি সাবকাওলা করতে দিতে হবে ৬৩ হাজার টাকা, যার দলিল মূল্য থাকবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। তাকে যখন বলা হয়, ‘সরকারি নিয়মনুসারে  লাখে ৭.৫ শতাংশ টাকার হিসাবে ৫২ হাজার ৫২৫ টাকা আসে। আপনি বেশি চাচ্ছেন কেন, তখন তিনি বলেন, আপনার কথা ঠিক আছে কিন্তু সাবরেজিস্টারকে প্রতি লাখে ৫০০ টাকা করে দিতে হয় এবং কিছু অফিস খরচ দিতে হয়। তাই ৬৩ হাজার টাকার কমে তিনি পারবেন না।’

ভুক্তভোগী মোহনপুর গ্রামের মো. ইব্রাহিম জানান, দলিল প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নেন অফিস সহায়ক মো. ইব্রাহিম। তাকে টাকা না দিলে দলিল এদিক-সেদিক করে দেওয়ার কথা বলেন। তা ছাড়া দলিলের নকল উঠাতেও দিতে হয় ২০০০ টাকা করে।

এ বিষয়ে অফিস সহকারী নাসিমা বেগম বলেন, দলিল লেখকরা সরকারি খরচের বাইরে যে অতিরিক্ত টাকা নেন, তা তারাই নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই টাকার একটি অংশ তাদের সমিতিতে জমা হয় এবং কিছু অংশ অফিসের আনুষঙ্গিক খরচে ব্যয় হয়। দলিলের নকল তোলার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত যে লেনদেন হয়, তা মূলত সরবরাহকারীরাই নিয়ে থাকেন। এর বাইরে আমার আর কিছু জানা নেই।

সাবরেজিস্ট্রার মাহবুবের রহমান ওয়াজেদ বলেন, ‘ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ২০০-৩০০ টাকা করে নেওয়ার বিষয়টি অনেক পুরোনো। তবে ভবিষ্যতে সে যাতে এমন কাজ আর না করে, সেটি আমি নিজে তদারকি করব।’

​অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাকি বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে বিষয়গুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করতে খান একাডেমির কার্য…
  • ১০ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের মাঝেই নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় মেসি
  • ১০ জুলাই ২০২৬
মোবাইলে যেভাবে দেখবেন ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ
  • ১০ জুলাই ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপে গোলের নতুন মাইলফলক
  • ১০ জুলাই ২০২৬
রেফারিদের ‘পক্ষপাতিত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল ফিফা, আর্জেন্টিনা-মিশ…
  • ১০ জুলাই ২০২৬
এবার চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ পূর্ণাঙ্গ পাব…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence