ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের আবাসন সংকট সমাধানে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে আজ মঙ্গলবার অবস্থান নেয় গণরুমের শিক্ষার্থীরা।
আবাসন সংকট নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, এই সংকট নিরসনে কিছু উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। যে সমস্যাটি (গণরুম) সেটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত, দিনক্ষণ বেঁধে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।
আজ (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, “সদিচ্ছা নিয়ে, আন্তরিকভাবে এই বিষয়গুলো এড্রেস করতে হবে, আমরা সেদিকে হাঁটছি। অনেকগুলো বিষয়েরই সংস্কার আনছি। আশাকরি যে- এই বিষয়গুলো একসময় হয়তো থাকবে না।”
“আমরা আস্তে আস্তে খুব পরিকল্পনার সঙ্গে সমাধানের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। সবচাইতে বড় বিষয় হচ্ছে- এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। স্থায়ী সমাধান হচ্ছে আসল সমাধান”, বলেন তিনি।
অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান আরও বলেন, “বেশ কিছু হল সম্প্রসারণ, নতুন হল নির্মাণ, এসব সমাধান হচ্ছে স্থায়ী। আর অন্যগুলো হচ্ছে- কিছু ব্যবস্থাপনার মধ্যে। এই ব্যবস্থাপনার মধ্যেও আমরা কিছু পরিবর্তন আনছি। আর দীর্ঘমেয়াদি-স্থায়ী সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে প্রজেক্ট তৈরি করে ফেলেছি, আমাদের বেশ কিছু অগ্রগতিও আছে।”
উল্লেখ্য, আবাসন সংকট নিরসনে ঢাবি কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গণরুমের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজ সকালে উপাচার্যের বাসভবনে উঠতে যান ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।
তবে উপাচার্যের বাসভবনের গেটের সামনে গিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের বাধায় পড়েন। এ ঘটনার পর সৈকতসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের বাসভবনের গেটের সামনে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
পরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে শিক্ষার্থীরা। সেখানে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান। এই আশ্বাসে উপাচার্যের বাসভবনের সামনের অবস্থান কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছে আন্দোলনকারীরা। তবে উপাচার্যের দেয়া আশ্বাস বাস্তবায়িত না হলে আবারো আন্দোলন যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।