© সংগৃহীত
সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়া- যমজ দুই বোন। বাগেরহাটের হরিণখানা গ্রামের মোঃ মহিদুল হাওলাদারের দুই মেয়ে। মাতা শাহিদা বেগম। দুই বোনই মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটে চান্স পেয়েছেন। মেধাক্রম যথাক্রমে ১১৬৩ ও ৮৪৬।
তবে তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে অর্থ। এজন্য শেষমেষ স্বরণাপন্ন হন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের। বৃত্তির জন্য আবেদন করেছিলেন। অবশ্য বৃত্তির ব্যবস্থা হয়নি এখনো। তবে তাদের ভর্তির জন্য সহায়তা করতে যোগাযোগ করছেন অনেকেই।
তাদের এ আহবানে সাড়া দিয়ে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। দুজনের ভর্তির টাকা ম্যানেজ হচ্ছে ডাকসুর সদস্য আসিফ তালুকদার, বাগেরহাট জেলা সমিতি, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনসহ আরও অনেকের প্রচেষ্টায়। এখন ভর্তির অপেক্ষা। তবে তাদের দুশ্চিন্তা এখন পরের খরচ নিয়েও।
সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা চান্স পেয়েছি। তবে ভর্তি নিয়ে এবং পরের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বৃত্তির জন্য আবেদন করেছি, তবে এখনো গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া ভর্তির টাকা ম্যানেজ হয়েছে কিনা তাও জানি না। ৩১ তারিখের মধ্যে আমাদের ভর্তি হতে হবে।’

ওই দুই বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, তাদের পিতা একজন দরিদ্র দিনমজুর, মা গৃহিনী। বড় কোন ভাই নেই। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত টিউশনি করিয়ে পড়াশুনার খরচ জোগাড় করেছি । উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় দুই বোনই জিপিএ-৫ (গোল্ডেন A+) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তাদের দুই বোনেরই স্বপ্ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার। ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর। বর্তমানে ভর্তির জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে দুই বোনের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব। এজন্য তারা বৃত্তির আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আপাতত আমরা ভর্তির টাকাটা সবার সঙ্গে কথা বলে ম্যানেজ করে দিচ্ছি। এরপর ওরা দুই বোন ভর্তি হলে তো খরচ নিয়ে সমস্যা তৈরি হবে। তখন আমরা ডাকসুর পক্ষ থেকে তাদেরকে যেসব ধরণের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে, তার সবই করব।’