বি এম লিপি আক্তার © সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৮ বছর পর সচল হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এই ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ছিল অনেক প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীরা ডাকসুর মাধ্যমে তাদের সকল সমস্যা সমাধানের স্বপ্ন দেখেছিল। শিক্ষার্থীরা ভেবেছিল, ডাকসু সচল হলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার মত কোনো রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকবে না। চলমান বৈধ রাজনীতিকে অবৈধ উপায়ে ব্যবহার করতে পারবে না কোন শিক্ষক, ছাত্রনেতা।
তবে, ডাকসু সচল হওয়ার সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যেও নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহারের বাস্তবায়ন করতে পারেনি ছাত্র নেতারা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাকে পুঁজি করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশায় তারা বিভিন্ন ইশতেহার দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচন করে ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক হন বিএম লিপি আক্তার। নির্বাচনের আগে যুগোপযোগী অনেক ইশতেহার দিলেও তিনি এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
বিএম লিপি আক্তার তার ইশতেহারে বলেছিলেন, প্রত্যেক ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়াতে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি অনুযায়ী মানসম্মত হাইজিন ঠিক রেখে সুলভ মূল্যে খাবার সরবরাহ করা হবে; ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনায় নিযুক্ত হোটেল ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে মানসম্মত উচ্চশ্রেণীর ক্যাটেরিং সার্ভিস কোম্পানিদেরকে যাচাই করে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নতুন করে নিয়োগ প্রদান করা হবে; খাবারগুলোতে মৌলিক পুষ্টি উপাদানগুলো নিশ্চিত করা হবে; এসব কিছু ঠিকঠাক চলছে কিনা সেটি মূল্যায়ন করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ন্যায় টিম গঠন করা হবে; যেসব জায়গায় ক্যাফেটেরিয়ার অপ্রতুলতা রয়েছে ( যেমন: কার্জন, মোকাররম ভবন, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন ) সেসব জায়গায় নতুন করে ক্যান্টিন স্থাপন করা হবে, শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে প্রত্যেক হল, ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরী, টিএসসি সর্বত্র ফিল্টারের ব্যবস্থা করা হবে; হলের মধ্যকার খাবারের দোকান, ক্যাম্পাসে পথখাদ্য দোকান মনিটরিং টিম দিয়ে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হবে; শিক্ষার্থীদের পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হবে; ক্যান্টিনে স্বল্পতা দূরীকরণ ও কমনরুমে গেমস কর্নারের ব্যবস্থা করা হবে; প্রতিটি অনুষদে ছেলেদের জন্য ফ্রেশ রুমের ব্যবস্থা ও দৈনিক পত্রিকার সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে; কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সিসি ঢিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং টিএসসি ক্যাফেটেরিয়া কনভেনশন হল হিসাবে ব্যবহার বন্ধ করা হবে।
তবে, বিএম লিপি আক্তারের প্রতিশ্রুতি কেবলমাত্র তার নির্বাচনী পোস্টার ও ব্যানারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গত পাঁচ মাসে এসব ইশতেহারের কোনোটাই তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেন নি।
ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে চাইলে ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা মোতাহার হোসেন ভবনে ক্যান্টিন, খাবার নিয়ে কাজ করছি। ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের যে মেন্যুটা আঠে আমরা সেটা সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে চাচ্ছি। তবে, কবে নাগাদ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কাজ করছি। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।