ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি আন্দোলনকারী সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সাত কলেজের একটি প্রতিনিধি দল প্রক্টরের কার্যালয়ে আলোচনায় বসে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ২০১৭-১৮ সেশনের সমস্যা নিয়ে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেন।
আলোচনায় অংশ নেয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্য স্যারের দেখা আমরা পাইনি। তবে প্রক্টর স্যার আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, যারা নট প্রমোটেড, তাদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণের জন্য বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর আগে টানা দুই দিন নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেন ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি প্রক্টর বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি উত্থাপন করেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম আছে। তবে আমি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে নানা স্লোগানে চারদিক মুখরিত করে রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুর দেড়টার কিছু সময় আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাবি-দাওয়া পূরণের ব্যাপারে আলোচনায় বসবেন- এ শর্তে আপাতত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করে রাস্তায় যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়।
শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধের এ কর্মসূচির ফলে আজিমপুর ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে ছেড়ে আসা কয়েকশ বাস, মাইক্রোবাস, জিপ, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল রাস্তায় আটকা পড়ে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা দুই ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকায় অনেকেই তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর করায় ভোগান্তিতে পড়ছেনে তারা। এভাবে গণহারে ফেল মেনে নেয়া যায় না। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিজিপিএ ২.০০ এর কম পেলে ফেল হিসেবে ধরা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের এ তথ্য জানানো হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা অবিলম্বে এ সমস্যার সমাধান দাবি করেন।