সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর সামনের জারুল গাছটি কেটে ফেলা হচ্ছে © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর সামনের জারুল গাছটি চেনেন না এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা হয়ত একেবারেই হাতেগোনা। প্রথমবর্ষ থেকে পড়াশোনার শেষ পর্যন্ত এমনকি সাবেক অনেকে এসেও গাছটির নীচে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দিতেন। কিন্তু সেই গাছটি আর নেই। মঙ্গলবার রাতে ঝড়ে ভেঙে গেছে সেটি। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি কেটে ফেলা হচ্ছে।
হাজারো স্মৃতির স্বাক্ষী গাছটি হারিয়ে স্বভাবতই মন খারাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এনিয়ে প্রকাশ্যেই নিজেদের কষ্টের অনুভূতিও প্রকাশ করছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকে এ নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।
শাহী দুল্লাহ নামে একজন ভাঙা গাছটির ছবি দিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বৃক্ষ ও পুরাণ। কত স্মৃতি, কত ইতিহাসের সাক্ষী। লাইব্রেরির সামনে নিমতলা, আমতলা, জামতলা, সব তলার সমুলে উৎপাটন। আজ প্রিয় জারুল গাছটি মহাপ্রয়াণের এক আত্নব্যদনার পাদটীকা, তার বিদায়ের দায় থেকে সে মুক্ত। আমরা কিংবা প্রকৃতির কাছে রেখে গেল প্রশ্ন, আমি এই বিদায় চাইনি।
তোমাদের জীবনের প্রতিটি অঙনে আমি ছিলাম, তোমাদের সুখ -দুখ আমি বুঝতাম। আজ প্রবীণ এবং নবীনদের একটা কথা বলতে চাই। আমাদের চলে যেতে হয় এভাবেই, রেখে যাওয়া কিছু স্মৃতি ছাড়া আমি জড় হয়ে গেলাম। তোমরাও চলে যাবে আমার মতো কোন এক সময় কিংবা পরোক্ষনেই।
থেকে যাবে সুখো স্মৃতি, তাই যা করো সময় আমাদের কে চলে যেতে বাধ্য করে, যদিও এ রকম বিদায়ই চাইনি, থেকে যাওয়ার খুবই ইচ্ছে ছিলো, এই যে নিয়মে বাধা, থাকা যায়??? তাই তোমারও প্রস্তুতি নাও, চলে যেতে হবে এই মায়ার বাধন ছেড়ে, মায়া আর কায়ার জগত থেকে। ভালো কিছু করো যদি চাও জীবনের দীর্ঘায়ু বাড়াতে সময়ে নয়, কর্মে বেচে থাকতে।
আজ তোমাদের ছেড়ে যেতে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। ইতিহাসের সন্তানদের ছেড়ে যেতে,ভালো থেকো তোমরা, মাঝে স্মরণ করিও আমি ছিলাম তোমাদের প্রিয়# জারুল গাছটি।’
সুষ্মিতা রায় সৃষ্টি নামে একজন লিখেছেন, ‘কান্না পাইতেছে অনেক। অনেক পুরনো একজন পরিবারের সদস্যকে হারালো ঢাবি।’ এছাড়া এ এম মাইমুন আহম্মেদ সজিব লিখেছেন, ‘দেখে আসলাম সবেমাত্র। কেমন জানি একটা চিনচিন ব্যথা অনুভব হলো।’
কাউসার মাহমুদ লিখেছেন, ‘কাটতেসে ক্যান! অই জায়গাটা ফাঁকা লাগলে কলিজায় মোচড় দিয়া উঠবে!’ আর শায়লা মাহবুব নীলা লিখেছেন, ‘কত স্মৃতি আছে এখানে, ১৯৮৯--১৯৯৪ পর্যন্ত!!’
এর আগেও সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর সামনে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে একাধিক পুরনো স্মৃতিবিজড়িত গাছ এভাবে ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে পুরনো আম গাছটি ভেঙে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে তীব্র দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।