চবিসাস আয়োজিত ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয় © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস) আয়োজিত দুদিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট-২০১৯’ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে চবির সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও বক্তব্য রাখেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার, গাজী টিভি ও সারাবাংলা ডট নেট’র এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, চবি প্রক্টর অধ্যাপক মো. আলী আজগর চৌধুরী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন চবিসাসের সভাপতি সৈয়দ বায়েজিদ ইমন। শাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ ও চবিসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মিলন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী চবিসাসের এই আয়োজনে ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘চবিসাসের অসাধারণ এই কর্মযজ্ঞ দেখে আমরা সত্যিই গর্বিত। আজকের এই আয়োজন শুধুমাত্র সাংবাদিক বন্ধুদের জন্য। আমরা যতটুকু পেরেছি করার চেষ্টা করেছি। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানুষের নিকট প্রয়োজনীয় তথ্য পৌছানোর ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের যে অসামান্য অবদান সেটা অতুলনীয়। তবে সংবাদের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা, সত্যনিষ্ঠতা অবলম্বন করতে হবে সাংবাদিকদের। পাশাপাশি সংবাদের যাচাই-বাছাই করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। দু’একজনের বিভ্রান্তিকর সাংবাদিকতার কারনে কেউ যেন কলুষিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি মিডিয়ার মত পবিত্র জায়গার পবিত্রতা রক্ষা করাও সাংবাদিকদের দায়িত্ব।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই ক্যাম্পাস ছিলো জিম্মি ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বজায় রাখতে আমরা এই ক্যাম্পাসকে পুনরায় সাজিয়েছি। কারো রক্ত চক্ষুকে ভয় না করে আমরা এগিয়েছি। দায়িত্ব যেদিন নিয়েছি, সেদিন থেকেই এই চেয়ারকে জায়নামাজ মনে করেছি। আজ পর্যন্ত আমি সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।’
চবি উপাচার্য বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর কোনো স্মৃতি ছিলো না। আজ অনেক কিছুই হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহিদদের জন্য যতটুকু পেরেছি স্মৃতিস্তম্ব তৈরী করেছি আমরা। জয়বাংলা ভাষ্কর্য আমাদের নতুন কনসেপ্ট। পাকিস্তানের মিনারের আদলে নির্মিত শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে নতুন করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে।’
এসময় তিনি চবির নান্দনিক ক্যাম্পাস ঘুরে এসব দেখার আহ্বান জানান সকলের প্রতি। পরে আয়োজনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে দেশের ২৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭টি সাংবাদিক সংগঠনের প্রায় আড়াই শতাধিক ক্যাম্পাস সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন।