বিবৃতিতে ছাত্রদল
ছাত্রলীগের হামলায় আহত মামুন
কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। সোমবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এক বিবৃতি দেয়।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কোটা আন্দোলনের নেতা হাসান আল মামুন গ্রন্থাগারের সামনে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীরা মামুনের ওপর হামলা চালায়। সূত্রের তথ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাইসুলের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। রাইসুল ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাসের অনুসারী।
আরো পড়ুন: কোটা আন্দোলনের আহ্বায়ক মামুনকে ছাত্রলীগের মারধর
হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করে ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুনের উপর সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাইসুলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। আহত হাসান আল মামুনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসান আল মামুন ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যান্য নেতারা ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারক লিপি প্রদানের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অপেক্ষমাণ ছিলেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মামুনের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
এছাড়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ ছাত্রদল নেতা বোরহান উদ্দিনের উপর হামলার লিখিত অভিযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিলেও প্রশাসন দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এই কারণেই আজকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা মামুনের উপর ছাত্রলীগের হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ঢাবি ছাত্রদলের নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ছাত্রলীগের এমন বর্বর পৈশাচিক হামলাই প্রমাণ করে ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। হামলাকারীদের বিচার ব্যবস্থা বলে দিবে ক্যাম্পাস সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা নিরাপদ।