মানববন্ধনে আবুল কাসেম ফজলুল হক
মানববন্ধন © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছেন, সম্প্রতি শাবিপ্রবির ঘটনায় খোঁজ নিয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। যে ঘটনাটি ঘটেছে তা যদি আংশিক সত্য হয় তবে শিক্ষক নামের কেউ এই পদে থাকতে পারেন না। কিছু শিক্ষক আছেন যারা ছাত্রদের বিরুদ্ধে স্বার্থবাদী কাজ করেন। এর ফলে আমাদের গোটা শিক্ষক সমাজের মাথা নিচু হয়ে যায়।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী প্রতীকের আত্মহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্ররোচকদের শাস্তির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা কেন আত্মহত্যা করে তা খোঁজ নিয়ে সমাধানের আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সিন্ডিকেট সদস্য ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হুমায়ন কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক তাজিন আজিজ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, ভাষাবিজ্ঞানের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. সালমা নাসরীন, উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজসহ বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে অধিকাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে ‘প্রতীকের মৃত্যু আত্মহত্যা না হত্যা?’, ‘আত্মহত্যা বন্ধ হোক’, ‘প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়ার সত্বেও প্রতীক কেন থিসিস করার সুযোগ পেল না’, ‘আত্মহত্যা প্রচারোনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’, ‘শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক’ শীর্ষক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ভাল শিক্ষকের গুণ ভালবাসা, পড়ানো; বক্তৃতা দেয়া কিংবা রাজনীতি করা নয়। সেই বিচারে শাবির অভিযুক্ত শিক্ষক আমার কাছে শূণ্য নম্বর পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি, এলাকাপ্রীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হয় বলে অভিযোগ করে বলেন, এজন্য ভাল শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব খাটাতে পারে না। ফলে নানা ঝামেলা হয়। জ্ঞানের চর্চা হয় না। তিনি প্রতীকের ঘটনায় জড়িত শিক্ষক আজাদসহ অন্যান্যদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।