বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চা নিশ্চিত করা

রিডিং ক্লাবের মাসিক লেকচারে ড. মোহাম্মদ আজম
১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১২ PM
রিডিং ক্লাবের মাসিক লেকচারে উপস্থিত অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম

রিডিং ক্লাবের মাসিক লেকচারে উপস্থিত অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম © টিডিসি ফটো

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়া বলতে প্রধানত বোঝায়- যে বিষয়টি পড়ছি তার সাথে যুক্ত (অন্তত) প্রভাবশালী মতগুলোর সাথে পরিচয়, এবং সে মতগুলোর উৎপাদনপদ্ধতির সাথে পরিচয়। এটি বিকল্পের ধারণা দৃঢ়মূল করে মৌলবাদকে নিরুৎসাহিত করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চা নিশ্চিত করে।

আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক গণবক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বলতে কী বোঝায়’ শীর্ষক এই বক্তৃতা যৌথভাবে আয়োজন করে।

তিনি বলেন বলেন, বাংলাদেশে নানা লক্ষণ থেকে নিশ্চিত করে বলা যায়, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বোক্ত চর্চায় হয় প্রবেশ করিনি বা সামান্যই করেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ধারণা অনেকটা বৃত্তিমূলক। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উন্নতমানের কলেজে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ধার করা। ঔপনিবেশিক অপর হিসাবে জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাই নিঃসন্দেহে এ অবস্থার কারণ। আমরা রাষ্ট্র চালাই কোনো ধারণা ছাড়াই অথবা বিশ্বব্যাংক বা অনুরূপ কোনো কোনো পশ্চিমের ফতোয়া মোতাবেক। সেবাখাতের উঁচু পদগুলোতে বা পরিকল্পনা প্রণয়নকারী রূপে বা উঁচু কৌশল দরকার হয় এমন চাকরিগুলোতে আমাদের ধার করতে হয় বিদেশি ‘গ্র্যাজুয়েট’। বস্তুত এ ধরনের পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য যে ধরনের শিক্ষা-আয়োজন দরকার, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সে ধরনের সক্ষমতা কখনোই অর্জন করেনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আকারে-আয়তনে, দর্শনে অতি মাত্রায় অনমনীয় বা রিজিড, যা ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ ধারণার পরিপন্থি। এই রিজিডিটি আমাদের সমাজেরই প্রতীকী প্রকাশ ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে বা স্বাধীনতাকে চূড়ান্ত মাত্রায় বেঁধে রাখার প্রাণান্তকর প্রয়াস। সমাজে তা ভাঙা কঠিন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তিমূলক শিক্ষার মানসিকতা ছেড়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা’য় প্রবেশ করলে তা সমাজকেও প্রভাবিত করবে বলে আশা করা যায়।

রিডিং ক্লাবের মাসিক লেকচারে উপস্থিতির একাংশ

 

সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য নির্ধারণ করি পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রদত্ত ডিগ্রির সংখ্যার উপর নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের জায়গা। কিন্তু বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কথা বলার পরিসর সংকুচিত হয়েও আসছে। ক্লাসরুম কিংবা আবাসিক হল সব জায়গায় শিক্ষার্থীদের বিশেষ ছাঁচে গড়ে তুলছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা দর্শনের বিপরীত পরিস্থিতি আমাদের বিদ্ধৎমহল, বিশেষত শিক্ষকরাও গ্রহণ করে নিয়েছেন। ফলে, তাঁরা সমাজে ও রাষ্ট্রে সংঘটিত অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদ করার বুদ্ধিবুত্তিক ও নৈতিক জোর হারিয়ে ফেলেন।

গুমের অধ্যাদেশে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে: সারজিস আলম
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি আবুল খায়ের গ্রুপে, নেবে…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
ভারতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিহত
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
১৭৮ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে উধাও ঠিকাদার
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
উনি নিজেকে কী মনে করেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন জামা…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর গ্রেপ্তার
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬