ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
© লোগো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দুজনকে আটকে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আখতারুজ্জামান ও রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ওই দুজনকে আটক করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। আটকৃতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করে। এরপর তাদের পরিবারের কাছে মুঠোফোনে এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়৷
ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ কর্মী আখতারুজ্জামান ও রাজিউর রহমানকে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ কর্মী হলেন- ঢাবির পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আখতারুজ্জামান এবং সংগীত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাজিউর রহমান। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও সংগঠনের কোনো পর্যায়ের কমিটিতেই রাজিউরের কোনো পদ নেই।
ঘটনার শিকার রিয়াজুল ইসলাম ও মো.সাইফুদ্দিন সিফাত জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দাঁড়িয়ে তাঁরা গল্প করছিলেন। হঠাৎ সাত থেকে আটজন এসে তাঁদের ঘিরে দাঁড়ায়। ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর সেখান থেকে তাঁদের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের মারধর করা হয়। সিফাতের মুঠোফোন থেকে তাঁর বাবাকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেন ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা।
ঢাবি শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জানান, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘যারা আটক করেছে, তাঁরা আইনবিরোধী কাজ করেছে। যে ঘটনাটি ঘটেছে, যখনই আমরা সেটি জানতে পেরেছি, তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজে কেউ জড়িত থাকলে সে যে সংগঠনেরই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে আমরা চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেব।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি অবহিত আছি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকলে পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’ শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।