শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
হালিমা খাতুনের মরদেহে সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুরে তার মরদেহে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হলে সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বিকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুনের মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে তার সাবেক সহযোদ্ধা, সহকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিশিষ্টজনেরা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় এ শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব।
শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ৫২ এর ভাষা সৈনিকরাই জাতি বিনির্মাণে ভূমিকা রেখেছেন। হালিমা খাতুনের অসাম্প্রদায়িক জীবন দর্শন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সমাজ বিনির্মাণে অনেক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে তার সাহিকত্যকর্মের প্রভাব রয়েছে। তার মৃত্যু জাতির অপূরণীয় ক্ষতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, আমি হালিমা খাতুনকে আমার বড় বোনের মতো জানতাম। তিনি আমাকে অনুজের মতো স্নেহ করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আমার সিনিয়র ছিলেন। কিন্তু আমরা একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছি। দীর্ঘকালের এ সম্পর্ক মঙ্গলবার শেষ হল।
ভাষা আন্দোলনের সময়ের স্মৃতিচারণ করে ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু বলেন, সে সময় কারফিউ ভেঙে নারীদের প্রথম যে মিছিলটি বেরিয়েছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন হালিমা খাতুন।
বর্ষীয়ান সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেন, মরার পরে জাতির যে ক্ষতি হয়েছে এইটা আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অথচ রাষ্ট্র, সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো দফতর তার কোনো খবর নেয়নি। এ্টা তার প্রতি রাষ্ট্রের অকৃতজ্ঞতা। এ দুঃখটা সাংঘাতিকভাবে আমাদেরকে কষ্ট দেয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ড. হালিমা খাতুন। মুত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বিকেলে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডির নাতনীর বাসায়। সেখানে রাখা হয় ফ্রিজিং ভ্যানে। সেখান থেকে বুধবার সকাল ১১টার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।