প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায়! বাঁধা দেওয়ায় সেই শিক্ষককে হত্যা

২৯ জুন ২০২২, ১১:৫৯ AM
নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার

নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার © ফাইল ছবি

ঢাকার সাভারে কলেজ শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যার নেপথ্যে কী- এই প্রশ্নের মধ্যে সন্দেহভাজন স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর সঙ্গে এক ছাত্রীর প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও সেই মেয়েকে দেখার পর শিক্ষক উৎপল তাদেরকে শাসন করেন। ওই মেয়ের পরিবারকে তিনি ফোন করে সব জানিয়ে সতর্কও করেন। মেয়েটা জিতুকে এসব বিষয় জানালে সে ক্ষুব্ধ হয়েই ওই স্যারকে পিটিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা এও বলছেন, উৎপলকে পেটাতে পরিকল্পনা করেই স্টাম্প নিয়ে এসেছিলেন জিতু। এটি নিছক ঝোঁকের বসে ঘটিয়ে ফেলা কোনো অপরাধ নয়।

কারণ যেখানে শিক্ষককে পেটানো হয়েছে, সেই জায়গাটি কলেজের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতাধীন বলে জিতু ঘটনার আগে আগে মেইন সুইচ বন্ধ করেছেন, যেন কোনো কিছু ক্যামেরায় রেকর্ড না হয়।

সেখানে মেয়েদের যে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলছিল, সেখানে স্টাম্প ব্যবহার করা হয়েছে প্লাস্টিকের। আর সেই শিক্ষককে পেটানো হয়েছে কাঠের স্টাম্প দিয়ে।

গত শনিবার দুপুরে চিত্রশাইল এলাকার হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে কলেজের প্রভাষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র জিতুর বিরুদ্ধে। পিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়া শিক্ষক উৎপল মারা যান পরদিন। এই ঘটনায় জিতুর বিরুদ্ধে মামলা করেন উৎপলের ভাই অসীম কুমার সরকার।

জিতুর দশম শ্রেণিতে পড়লেও তার বয়স ১৯ বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, এই তরুণ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে ঝরে পড়ার পর এই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘জিতু ক্লাস নাইনে আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছিল। এর আগে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার একটা মাদ্রাসায় পড়ত। সে ছাত্র হিসেবে খুবই দুর্বল প্রকৃতির। উচ্ছৃঙ্খলও। তার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়েরও অভিযোগ ছিল।’

কলেজের সামনের মার্কেটের মালিক ইমান উদ্দিনের বলেন, ‘আসল ঘটনা এখনও কলেজের শিক্ষকরা বলছেন না। তবে আস্তে আস্তে সব বেরিয়ে আসবে। জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনের ব্যবসায়িক পার্টনার মাজেদ নামে এক ব্যক্তি। তাদের হোটেল ব্যবসা আছে। সেই মাজেদের শ্যালিকার ছোট বোন এই কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। তার সঙ্গে জিতুর আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক।

‘কিছুদিন আগেও স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও সেই মেয়েকে দেখার পর শিক্ষক উৎপল তাদেরকে শাসন করেন। ওই মেয়ের পরিবারকে তিনি ফোন করে সব জানিয়ে সতর্কও করেন। মেয়েটা জিতুকে এসব বিষয় জানালে সে ক্ষুব্ধ হয়েই ওই স্যারকে পিটিয়েছে।’

ইমান উদ্দিনের তথ্য বলছে, জিতু এতটাই বেপড়োয়া ছিলেন যে, খেলার আগের দিন থেকেই কলেজের বাইরে স্টাম্প নিয়ে ঘুরছিলেন।

তিনি জানান, সেদিন জিতুর সঙ্গে আরও তিন জন ছিল। পেটানোর পর চার জন এক সঙ্গে হেঁটে চলে যায়।

একই কথা জানান ওই কলেজে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইম ইসলাম। সাইম বলেন, ‘স্যার সেই মেয়ের বাসায় ফোন করে শক্তভাবে বিচার দিয়েছিলেন যেন মেয়েটা জিতুর সঙ্গে না মেশে। এটার ক্ষোভ থেকেই জিতু স্যারকে খেলার দিন পিটিয়েছে।’

কলেজের হিসাবরক্ষক পারুল আক্তার বলেন, ‘কিছু দিন আগে স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও মেয়েটাকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেভাবে বিস্তারিত জানি না। মেয়েটা আমাদের কলেজের এক শিক্ষকের ছোট বোন। এর বেশি আর কিছু জানি না আমি।’

কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, ‘উৎপল কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান ছিলেন। তাই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে তিনি হয়ত শাসন করেছিলেন। তবে ঠিক কোন বিষয়টা, সেটা আমার জানা নেই। আর ওই দিনের ফুটেজের বিষয়টা হলো, আমরা হঠাৎ করে দেখি কারেন্ট চলে গেছে। কিন্তু তখন আশপাশে সব জায়গায় কারেন্ট ছিল। ঘটনার পরপর আমরা বুঝতে পারি, সে (জিতু) পরিকল্পিতভাবেই বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করেছে।’

নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। ৩৫ বছর বয়সী এই শিক্ষক প্রায় ১০ বছর ধরে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকতা করছেন।

প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা শুরু
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সোমবার ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকায় বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
কয়লা কেলেঙ্কারির অভিযোগে তদন্ত, পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার বাতাস আজ মাঝারি মানের, বায়ুদূষণে শীর্ষে দিল্লি
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সার্ভেইলেন্সের ম্যান্ডেট আসলে কার?
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬