আদালত চত্বরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পরীমনি © ছবি : সংগৃহীত
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি আজ শুনানির পর আদালত চত্বরে পড়ে আহত হন। রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আজ তাকে ফের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদেশের পর সিএমএম আদালতের আটতলা ভবন থেকে পরীমনিকে বের করা হয়। আদালত ভবনের নীচে গারদ থানার সামনে শতশত মানুষ, সাংবাদিক পরীমনির জন্য অপেক্ষায় ভিড় করেন। এর ফলে হাঁটার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। এর মধ্যেই পরীমনিকে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে গারদ থানায় নেয়ার জন্য রওনা দেয়। এসময় হুড়োহুড়িতে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পরীমনি। এতে হাতে-পায়ে ব্যথা পান তিনি। পরে নারী পুলিশরা তাকে তুলে গারদ থানায় প্রবেশ করান।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট পরীমনিকে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির আবেদনে বলা হয়, দুই দিনের রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদের শেষ দিকে আসামি মামলার ঘটনা ও ঘটনার নেপথ্যে মূলহোতাদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিরা প্রদত্ত তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে ইতোপূর্বে আদালতের আদেশে পুলিশ রিমান্ডে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদে যে সকল তথ্য প্রদান করেছে উক্ত তথ্য সমূহের সঠিকতাসহ মাদক ব্যবসায়ী মূলহোতাদের গ্রেফতার, মাদকদ্রব্যের মজুদ উদ্ধারসহ মাদক ব্যবসার পিছনে অর্থের যোগানদাতাদের খুঁজে বের করতে পুনরায় তার ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন। আসামিকে রিমান্ডে পাওয়া গেলে মাদক ব্যবসায়ী মূলহোতাদের গ্রেফতার, মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎসসহ অপরাধলব্ধ আয়ের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে।
গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানে নতুন মাদক এলএসডি, মদ ও আইস উদ্ধার করা হয়। তার ড্রয়িংরুমের কাভার্ড, শোকেস, ডাইনিংরুম, বেডরুমের সাইড টেবিল ও টয়লেট থেকে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে তার বাসা থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮টা ৪৫ মিনিটে গাড়ি কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দফতরে পৌঁছায়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব। পরদিন গত ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে র্যাব সদরদফতর থেকে পরীমনি, রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে করে নিয়ে বনানী থানায় রওনা দেয় র্যাবের একটি টিম। এরপর র্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী বিপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় দায়ের করে।