মোসারাত জাহান মুনিয়া © ফাইল ফটো
কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া আত্মহত্যার ঘটনায় আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে তার লেখা ৬টি ডায়েরি। যার প্রতিটি পাতায় পাতায় মুনিয়ার মানসিক বিপর্যস্ততার প্রমাণ রয়েছে। এই ডায়েরিই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী।
এর আগে গত সোমবার রাজধানীর গুলশান-২ এর ১২০ নম্বর সমড়কের ১৯ নম্বর বাড়ির ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ৬টি ডায়েরি উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে একমাত্র আসামী করে মামলা করেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান।
পুলিশ উপকমিশনার বলেন, মোসারাত জাহান মুনিয়াকে হতাশা গ্রাস করেছিল। মুনিয়ার ডায়েরির পাতায় পাতায় মানসিক বিপর্যস্ততার প্রমাণ আছে। মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যেই তাকে হয়তো এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতি, দাম্পত্য জীবন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা, প্রতিবন্ধকতা, তাঁদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ও পারিবারিক সমস্যার কথা লিখে গেছেন ভুক্তভোগী নারী। এই মামলা প্রতিষ্ঠায় ডায়েরি আদালতে জরুরি হবে। ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী পুলিশ প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য গ্রহণ করবে।
সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, বেশ কিছু ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে এক সুতোয় গাঁথতে, অর্থাৎ কোন ঘটনার পর কোনটি ঘটেছে, তা জানতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোন ও পারিপার্শ্বিক যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো সংগ্রহ করেছে। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, ভুক্তভোগী নারীর মৃত্যু কী কারণে, সেটি জানা সবচেয়ে জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু মামলাটি বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলা, ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার দিতে সবাই মিলে চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং মূলত আইনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবাই কাজ করব।