জমি বিক্রির নামে ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, অবশেষে ধরা

ইমাম হোসেন নাসিম
মো. ইমাম হোসেন নাসিম ও তার তৃতীয় স্ত্রী হালিমা আক্তার সালমা  © সংগৃহীত

‘স্বল্পমূল্যে জমি পাওয়া যাচ্ছে’- এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গোপন সুরঙ্গে ছিলেন আবাসন ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন নাসিম। বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এসময় নাসিমের সাথে থাকা তার তৃতীয় স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ জাল এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ১৪শ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, চারটি ওয়াকিটকি সেট, ছয়টি পাসপোর্ট, ৩৭টি ব্যাংক চেক এবং ৩২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, ‘স্বল্পমূল্যে জমি পাওয়া যাচ্ছে- সাইনবোর্ডে এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় নাসিম। কিন্তু তার দেখানো জামিগুলো ছিল খাস, দখল করা কিংবা পানি ভরা। এছাড়া স্বল্পমূল্যে প্লট পাওয়ার কথা বলে, প্লটপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার চুক্তি করেছিল। রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার কথা বলে একেকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আরও সাড়ে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নেয় তারা। সব মিলিয়ে এভাবে ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ইমাম হোসেন নাসিম। নাসিম ৫৫টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় সাইনবোর্ড দিয়ে জমি দেখিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। বিভিন্ন সময়ে নামে-বেনামে ৩২টি সিমকার্ড ব্যবহার করেছে সে। আর এই সিমগুলো দিয়ে প্রতারণা করে মানুষদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যেত এবং কখনো কখনো অস্ত্র প্রদর্শন ও ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতো। এছাড়া গ্রেফতার এড়াতে আন্ডারগ্রাউন্ডে তার গোপন সুরঙ্গে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্বলিত দরজাযুক্ত গোপন অফিসে আত্বগোপনে থাকতেন। নাসিমের অনুপস্থিতিতে তার তৃতীয় স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতারণার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন।

তিনি বলেন, এই প্রতারকের বাবা-দাদার বাড়ি ভোলায়। দেশ স্বাধীনের আগে তার বাবা বেলায়েত হোসেন গ্রাম্য ডাক্তার ছিলেন। স্বাধীনতার পর তাকে নিয়ে তার বাবা রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে নাসিম মিরপুর এলাকায় পড়ালেখা করেন। সে নিজেকে গ্রাজুয়েট দাবি করেন। ‌১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিতাসের তৃতীয় শ্রেণীর ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০২ সালে নাসিম রিয়েল এস্টেট নামে কোম্পানি গড়ে তোলেন।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ