‘আমি এমন হতভাগা বাবা, ছেলের পরিচয় দিতেই ভয় পাচ্ছি’

এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলার আসামিরা
উপরে বাম থেকে সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ও শাহ মাহবুবুর রহমান; নিচে অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান  © ফাইল ফটো

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ছয় নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমানকে (২৫) গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট জেলা ডিবি ও কানাইঘাট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে হরিপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে সারাদেশে আলোড়ন তোলা ওই ধর্ষণের ঘটনায় আসামিদের শাস্তি চেয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। আসামি রবিউল ইসলামের বাবা বলেছেন, তাঁর এক ছেলে পাঁচ মেয়ে। রবিউল লেখাপড়ার জন্য ২০১৪ সালে সিলেটে যান। প্রথমে নানা বাড়ি, পরে এমসি কলেজে থাকতেন। তিনি বলেন, ‘আমার এক কথা, আমি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে নেই। রবিউল দোষ করলে সাজা হোজ।’ 

আরেক আসামির বাবা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি এমন হতভাগা যে, ছেলের পরিচয় দিতেই ভয় পাচ্ছি। তবে ছেলেটা আগে এমন ছিল না। কলেজে গেলে তো দায় কর্তৃপক্ষের। ছাত্রাবাসে থাকলেও কর্তৃপক্ষ তো আরেক অভিভাবক। তারা কী করছেন? তাদের কেন বিচার হবে না?’

এ ঘটনায় সর্বশেষ গ্রেফতার মাহফুজুর রহমান এমসি কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কানাইঘাটের দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপির লামা দলইকান্দি গ্রামের সালিক আহমদের ছেলে। এর আগে, রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কচুয়া নয়াটিলা এলাকা থেকে রাজন ও তার সহযোগী আইনুদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই মামলার আরেক আসামি মাহবুবুর রহমান রনিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাবের একটি দল। অন্যদিকে, নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে রবিউলকে গ্রেফতার করে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। এছাড়া রবিবার সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দু’জন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ