শেরপুর নকলা উপজেলার ১নং গণপদ্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের (৪০) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এক কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার ভোরের দিকে এলাকাবাসী জলিলের ঘরে ঐ কিশোরীসহ জলিলকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলাকার চেয়ারম্যান সামছুর রহমান আবুল।
জানা গেছে, যুবলীগ নেতা আব্দুল জলিল ইতোপূর্বে অন্তত চারটি বিয়ে করেছেন কিন্তু কারো সাথে সংসার টিকেনি। পাঁচ মাস আগে গণপদ্দি ইউনিয়নের পূর্ব চিতলিয়ায় এলাকায় ভাড়া বাসায় জলিল একাই থাকেন। এই সুযোগে ওই মেয়েটির সাথে প্রেমের ফাঁদ পেতে বিয়ের প্রলোভনে ভাড়া বাসার ঘরের দরজা বন্ধ করে প্রতিদিনই কথা বলেন। বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে বিরক্তির কারণ হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছিলেন না। গতকাল গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ওই নেতা ও মেয়েটিকে আটক করে।
এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে মেয়ের মা নূরেজা বেগম বাদী হয়ে জলিলের বিরুদ্ধে রাতে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কতিপয় নেতা জোর চেষ্টা চালিয়ে উত্তেজিত জনতার চাপে ব্যর্থ হন। অন্তত ১৫ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নকলা থানা পুলিশ জলিলকে উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করে আটক করেন।
এদিকে এই অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নকলা উপজেলা যুবলীগ রাতেই জলিলকে বহিস্কার করে প্রেস ব্রিফিং দিয়েছেন। নকলা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সোহেল, যুগ্ম আহবায়ক এফএম কামরুল আলম মঞ্জু ও রেজাউল করিম রিপন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিস্কারের সিদ্ধান জানানো হয়।
নকলা থানার ওসি আলমগীর হোসেন শাহ জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে জলিলকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।