বড় ভাই হিসেবে ‘সালাম’ না পেয়ে তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

০৪ মার্চ ২০২০, ০৮:৩১ AM
ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার রহমত উল্লাহ (বামে) অভিযুক্ত অনন্ত

ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার রহমত উল্লাহ (বামে) অভিযুক্ত অনন্ত

রাজধানীর মহাখালীতে এলাকার বড় ভাই হিসেবে ‘সালাম’ না পেয়ে ক্ষোব্ধ হয়ে রহমত উল্লাহ (২২) নামের এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে অপর বখাটে তরুণ। গত শুক্রবার আমতলায় এ ঘটনা ঘটেছে। একমাত্র আসামি অনন্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত অনন্তকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

নিহত রহমত হাজারীবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। আর ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন রহমত উল্লাহ। আর অভিযুক্ত অনন্ত ও লেভেলে পাস করার পর আর কোনো লেখাপড়া করেনি। তার বাবা বেঁচে নেই। অনেক আগে দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা মারা যান। মায়ের সঙ্গে মহাখালীতে নিজেদের ফ্ল্যাটে বসবাস করেন তিনি। তবে কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না অনন্ত।

রহমতের বাবা আবদুস সাত্তার মহাখালীতে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তার চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার রহমতের সঙ্গে মহাখালীর একটি মসজিদে একসঙ্গে নামাজ পড়েন তিনি। তারপর রহমত চা খেতে যান মহাখালীর আমতলায়। সেখানে আসেন একই এলাকার অনন্ত নামের এক তরুণ। বড় ভাই হিসেবে অনন্তকে সালাম দেননি রহমত। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রহমতকে ছুরিকাঘাত করেন অনন্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে রহমত মারা যান।

এই খুনের ঘটনায় রহমতের বাবা আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে অনন্তকে আসামি করে রাজধানীর বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা করার তিন দিনের মাথায় গ্রেপ্তার হয়েছেন একমাত্র আসামি অনন্ত।

একমাত্র ছেলে রহমত উল্লাহ খুনের ঘটনায় পাগলপ্রায় তাঁর মা রিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘রহমত উল্লাহ নরসিংদীতে কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে হাফেজ হয়েছে। পরে মহাখালী এলাকায় ফিরে ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা শুরু করে। সে কোনো গ্রুপের ভেতর ছিল না। কোনো আড্ডায় যেত না। একমনে ব্যবসা করত।’ একই কথা বলেন রহমতের বাবা ছাত্তার।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো দোষ নেই। অথচ বিনা কারণে বিনা দোষে আমার ছেলেকে অনন্ত খুন করল। আমি অনন্তের ফাঁসি চাই। আর কিছু চাই না। আমার জীবনসংসার তছনছ করে দিয়েছে অনন্ত।’

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আহসান হাবীব বলেন, রহমত উল্লাহ খুন হওয়ার পর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন—এলাকায় কোনো প্রকারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না তিনি। ব্যবসায়িক কাজেই সব সময় ব্যস্ত থাকতেন। অন্যদিকে, অনন্ত বখাটে ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। খুনের কারণ হিসেবে জানতে পারেন, বড় ভাইকে সম্মান হিসেবে সালাম না দেওয়ার কারণে অনন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে রহমতকে ছুরিকাঘাতে খুন করেছেন।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আবু সিদ্দিক বলেন, ‘বড় ভাই হিসেবে সম্মান না করার কারণে রহমত উল্লাহকে খুন করেছে আসামি অনন্ত। ও লেভেলে পাস করার পর আর কোনো লেখাপড়া করেনি অনন্ত। আদালতের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে খুনের কারণসহ সব ধরনের তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

মামলার দুজন তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনন্তের বাবা বেঁচে নেই। অনেক আগে দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা মারা যান। মায়ের সঙ্গে মহাখালীতে নিজেদের ফ্ল্যাটে বসবাস করেন তিনি। তবে কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না অনন্ত।

যে ছুরি দিয়ে রহমতকে খুন করা হয়েছে, সেই ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ। ঢাকার আদালতে এক প্রতিবেদন দিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা বলেছে, অনন্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চাঁদপুরে তাঁর খালার বাসা থেকে। জিজ্ঞাসাবাদে অনন্ত স্বীকার করেন, রহমতকে যে ছুরি দিয়ে তিনি খুন করেন, পরে ছুরিটি রেখেছিলেন মহাখালীর গাউসুল আজম মসজিদের পশ্চিম পাশের দেয়ালের পাশে। পরে সেই ছুরি জব্দ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
দুই দশক পর প্রথম পৌর নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে গাজা 
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর …
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা উদ্বেগজ…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা জানালেন…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে ট্রাস্ট ব্যাংক, আবেদন শেষ ৬ মে
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬