কুমিল্লা © সংগৃহীত
কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় দরজা ভেঙে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে থানা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে থানায় ভাঙচুর কিংবা আটক ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বুধবার দিনভর দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে ২৮ জনকে আটক করা হয়। আটকের পর তাদের থানার একটি বিশেষ কক্ষে রাখা হয়েছিল। রাতে ওই কক্ষে থাকা কিশোরদের কয়েকজন হঠাৎ দরজা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় কক্ষের ভেতরে থাকা বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে থানার একটি কক্ষের ভেতরে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। দরজার একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুল ইসলাম পলাশ।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাঙচুর বা আসামি পালানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একটি প্লাস্টিকের চেয়ার উল্টে গিয়েছিল মাত্র, এর বেশি কিছু নয়। আমরা অভিযানে মোট ২৮ জনকে আটক করেছিলাম। পরে তাদের যাচাই-বাছাই শেষে নিজ নিজ অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, কুমিল্লা জেলার প্রত্যেকটি থানায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। এটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রত্যেকটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, সেসব স্থানেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন। অভিযানে মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের আগের কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।