দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন © টিডিসি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বালুদস্যুদের হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্বনাথপুর এলাকায় ড্রেজার মেশিন ধ্বংসের সময় বালুসিন্ডিকেটের সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা।
উপজেলার ফুলবাড়ী ও দরবস্ত ইউনিয়নের কাটাখালী, হাতিয়াদহ, শাকপালা, বিশ্বনাথপুর, চকরহিমাপুর, চাঁদপুর খলসী বোয়ালিয়া ও সমসপাড়া এলাকায় গতকাল বেলা তিনটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত চারটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিশ্বনাথপুর এলাকায় আরেকটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংসের সময় বাঁধের ওপর থেকে বালুদস্যুরা ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অন্যান্য সদস্যদের লক্ষ্য করে ঢিল ও গাছের ডাল নিক্ষেপ করে। এতে ওই ড্রেজারের শ্রমিক রাজু শেখ গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউএনও ও অন্যদের উদ্ধার করেন। আহত রাজু শেখকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে, যা নদীর নাব্যতা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। গত কয়েক মাসে করতোয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর দুই তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা এলাকার কৃষিজমি ও বসতঘরের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বালুসিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন দীর্ঘদিনের সমস্যা। চলতি বছর জেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত একাধিকবার অভিযান চালালেও বালুসিন্ডিকেটের সক্রিয়তায় তা ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি বালুসিন্ডিকেটের সক্রিয়তা বাড়ায় প্রশাসন অভিযান জোরদার করেছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর নাব্যতা রক্ষায় ও অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরবর্তী অভিযানের পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে প্রশাসন। করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গোপন সংকেতের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হবে এবং বালুসিন্ডিকেটের মূলহোতাদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।