থানায় নিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করল ওসিসহ ৫ কর্মকর্তা!

০৫ আগস্ট ২০১৯, ০৬:৫০ PM

© সংগৃহীত

খুলনার জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে (২১) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা হয়নি। আজ সোমবার সকালে তাকে আবারো হাসপাতালে নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ওসি ওসমান গনি গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের টাকা প্রদান করার প্রস্তাব দিচ্ছে।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর দুলাভাই বলেন, শুক্রবার (২ আগস্ট) আমার শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসে। ট্রেন থেকে নামার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে আমাদের ফোন দিয়ে এক লাখ টাকা নিয়ে থানায় যেতে বলে পুলিশ।

তখন ওসিকে বলেছি, স্যার আমরা গরিব মানুষ, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তখন ওসি বলেন, ঠিক আছে, এখন সাত বছর জেল খাটলে সব ঠিক হয়ে যাবে। ওই দিন রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় বসে থেকেও আমার শ্যালিকাকে ছাড়াতে পারিনি আমরা।

থানা থেকে চলে আসার পর ওই দিন গভীর রাতে জিআরপি থানা পুলিশের ওসি ওসমান গনি পাঠান প্রথমে আমার শ্যালিকাকে ধর্ষণ করে। এরপর আরও চার পুলিশ সদস্য পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠায়। সেদিন তাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিন জেলারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ওই গৃহবধূকে রবিবার আদালতে তোলা হয়।

তখন আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর জিআরপি থানায় আটকে গণধর্ষণের বিষয়টি আদালতের বিচারকের সামনে তুলে ধরেন গৃহবধূ। এরপর আদালতের বিচারক তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ওসি ওসমান গনি মোটা অংকের টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় হুমকি দিচ্ছে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যরা।

ওসি ওসমান গনি বলেন, শুনেছি ওই গৃহবধূকে থানায় গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ওই গৃহবধূকে এক নারী এসআই এবং নারী কনস্টেবল পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করেছেন। থানায় ওই দিন রাতে তিনজন নারী পুলিশসহ আটজন পুলিশ পাহারায় ছিলেন। সেখানে গৃহবধূকে গণধর্ষণের সুযোগ নেই। মূলত মামলা থেকে রক্ষা পেতে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ।

জিআরপি থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওসি ওসমান গনি, কনস্টেবল মফিজ, কুদ্দুস, আলা উদ্দিন ও কামরুল ডিউটিতে ছিলেন।

সোমবার দুপুরে জিআরপি পুলিশের এসআই মফিজুল বলেন, ওই দিন আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে ওই গৃহবধূ নাকি আদালতে অভিযোগ করেছেন তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি ওসমান গনি বর্তমানে কোথায় আছেন জানতে চাইলে এসআই মফিজুল বলেন, বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন ওসি। গণধর্ষণের শিকার নারীর তদারকি করছেন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খুলনা সদর) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশের, এটা নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ দেখবেন।

টাকার বিনিময়ে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ায় তিন রেলকর্মী সাময়িক…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৯ম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাবিপ্রবিতে মানববন্ধন
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্টের প্রতিবাদে ঢাবিতে ছা…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে ব্র্যাক, আবেদন শেষ ১০ ফেব্রুয়ারি
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডিএনসিসির প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীতে ৯ম পে স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে মানববন্ধন
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬