উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন © সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৬) হত্যার ঘটনায় মিঠামইন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন ওরফে নৌশাদকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত রবিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২১ আগস্ট রাতে মিঠামইন বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি নেতা জাহিদুল হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইমরান হোসেনকে ২১ আগস্ট রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় যুবদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেনসহ এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর বাজার এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তাদের এলোপাতাড়ি কুপের আঘাতে গুরুতর আহত হন জাহিদুল। পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ১৮ জুলাই নিহত জাহিদুলের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আসামি মো. হেলালকে (২৫) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আরও পড়ুন: তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত, তবুও দায়মুক্তি পেলেন শিক্ষা প্রকৌশলের ৫ কর্মকর্তা
এ ছাড়া পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওইদিন মহিন উদ্দিন (৩৩) ও মো. শাহিন আলমকে (২৭) নামে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তারা তিনজনই ভাড়াটিয়া খুনি বলে পুলিশ নিশ্চিত করে। জাহিদুলকে হত্যা করতে ঢাকা থেকে তাদের ভাড়া করে বেশ কয়েক দিন আগে মিঠামইনে আনা হয়েছিল। ভাড়াটিয়া খুনিদের একজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন ওরফে খোকার নাম বলেন। এরপর থেকেই মোকাররম আত্নগোপনে চলে যান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসে তিনি একাধিকবার এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা মোকাররম হোসেনকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।
নিহতের ছোট ভাই মো. আলমগীর শিকদার বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে যারা হত্যা করেছে এবং এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘দল-মত বুঝি না, নৃশংস এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক তাকেই গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হোক।’
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি নেতা হত্যার ঘটনাটি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যত শক্তিশালী হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ নির্দেশদাতা সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।