প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
আর্তনাদ যেন বাইরে না পৌঁছায়, সেজন্য ঘরে উচ্চশব্দে গান ছেড়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মেহেদী হাসান শাপলার বিরুদ্ধে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের সময় প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে মাছুদা বেগমের (২৭) দুটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। পরে কাস্তে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয় ছ্যাঁকা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার সাত দিন পর শুক্রবার রাতে মারা যান ওই গৃহবধূ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাছুদা বেগম জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়ার মৃত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে। তিনি কালাই উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে মেহেদী হাসানের সঙ্গে মাছুদার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। এর মধ্যে তাদের বিচ্ছেদও হয়। তবে এক বছরের মাথায় তারা আবারও বিয়ে করেন।
গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মাছুদার মেয়ে বাড়িতে ছিল না। এ সময় যৌতুকের দাবিতে মেহেদী ঘরে উচ্চশব্দে গান ছেড়ে দেন। এরপর মাছুদার হাত-পা বেঁধে তাকে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে তার দুটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। পরে কাস্তে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে মাছুদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন মেহেদী। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।
প্রথমে মাছুদাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে মাছুদার মৃত্যু হয়।
মামলার বাদী মাছুদার ভাই বছির মণ্ডল বলেন, আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
ওসি (তদন্ত) দিপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মামলার পরপরই মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেহেদী হাসান শাপলা উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের ছেলে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।