শিশুকে উত্ত্যক্ত করে ভিডিও ধারণ যুবক গ্রেপ্তার © টিডিসি ফটো
ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করে ভিডিও ধারণ এবং তা টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন ওরফে হোসাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে সন্ধ্যায় শহরতলীর লালপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক মোজাম্মেল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর সিলোনিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন রহমানের বাড়ির সামনে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি ও অশালীন আচরণ করেন। তারা শিশুটিকে শ্লীলতাহানি ও উত্ত্যক্ত করে। অপর একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে টিকটকে পোস্ট করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পরদিন শিশুটি বিষয়টি তার বাবাকে জানায়। পরে ৩০ জুলাই সকালে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে শিশুটির বাবা ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- পশ্চিম সিলোনিয়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং যাত্রাসিদ্ধি এলাকার মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজ (১৯)।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনকে আটক করা হয়।
তিনি জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আটক মোজাম্মেল হোসেনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।