অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ PM
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনের স্ত্রী শামিয়া খান এশা

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনের স্ত্রী শামিয়া খান এশা © টিডিসি সম্পাদিত

জয়পুরহাটে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী শামিয়া খান এশা। রবিবার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তার সঙ্গে মো. আরিফ হোসেনের বিয়ে হয়। বর্তমানে আরিফ হোসেন জয়পুরহাট জেলার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিসিএস ৩৪তম ব্যাচ) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় তার পরিবার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও অন্যান্য উপহার দেয়। এছাড়া প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, হীরার আংটি ও মূল্যবান ঘড়িও দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী নিয়মিত মদ্যপান ও মাদক সেবনের পাশাপাশি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি তার অনুপস্থিতিতে বাসায় বিভিন্ন নারীকে এনে সময় কাটানো এবং বন্ধুদের নিয়ে মদ্যপান ও নারীসঙ্গ উপভোগ করার ঘটনাও তিনি দেখেছেন । এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শামিয়া বলেন, পরে তার পুলিশ স্বামী কামরুন জাহান বিথী নামে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে বাসায় এনে সম্পর্ক অব্যাহত রাখতেন। এ বিষয়ে তিনি রামপুরা থানায় অভিযোগ করার পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় । একইসঙ্গে তার স্বামী নিজের পেশাগত ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছে ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তার মা-বাবা গ্রামের জমি বিক্রি করে নগদ অর্থ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ওই টাকা দেন। সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি গাড়ি কেনা হয় এবং পূর্বাচলে জমি কেনাসহ বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। এরপরও আরো ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি জয়পুরহাটের ভাড়া বাসায় যৌতুকের দাবিতে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় তাদের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুও নির্যাতনের শিকার হয়। একপর্যায়ে গভীর রাতে মা-মেয়েকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় । পরে প্রতিবেশীর বাসায় আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় থানায় নিয়ে গিয়ে সাত দিন নিরাপত্তা দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বাবার বাড়িতে চলে আসার পর থেকে তার স্বামী তাদের কোনো ভরণ-পোষণ দিচ্ছেন না এবং সন্তানেরও খোঁজখবর নিচ্ছেন না। 

শামিয়া খান এশা দাবি করেন, গত ৩০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় স্বামীর এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে তিনি স্বামীকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় প্রতিবাদ করলে তার মাথায় মোবাইল ফোন দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘এসব ঘটনার পর তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া গত ৫ জুলাই যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। তার দাবি, নির্যাতনের ছবি, অডিও, ভিডিও, মেসেজ, বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত আদালতে পেনড্রাইভের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আদালত অভিযুক্তকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।’

তার অভিযোগ, আদালতের সমনের বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলের প্রভাব খাটিয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় তার, তার মা-বাবা এবং পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং মামলার সাক্ষীদেরও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

‘একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তিনি একই জেলায় দায়িত্ব পালন করায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা জেলার প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করায় সাক্ষীরা ভীত এবং অনেকে সাক্ষ্য দিতে রাজি হচ্ছেন না। এমনকি আমাকে এসিড দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।’

এ কারণে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের কাছে আবেদন জানিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জয়পুরহাট জেলা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান, যাতে তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এসব অভিযোগের নিরেপক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী।

এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনকে একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলে তিনি কল কেটে দেন। 

সব সরকারি কলেজের জন্য মাউশির নির্দেশনা
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
গণভোটকে ‘উপহাস’, জাতীয় সংসদের সংবিধান  সংশোধন কমিটির সভা বর…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছে এনসিপি
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সেন্টমার্টিনে ৩০০ হোটেল-রিসোর্ট, একটিরও নেই ফায়ার সার্ভিসের…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
টেকনাফে সাগরে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাত, জেলে নিহত
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
৩ দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950